ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে হিব্রুভাষী বিভিন্ন সূত্রে জোরালো গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই জল্পনা-কল্পনার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ বা গুজব কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা খণ্ডন করা হয়নি।
তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রধান কয়েকটি ইঙ্গিত হলো: প্রথমত, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিওটি প্রায় তিন দিন আগে প্রকাশিত হয়েছিল, এবং ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান চার দিন পর্যন্ত। এরপর থেকে তার নামে আসা বিবৃতিগুলো কেবল লিখিত আকারে। এর বিপরীতে, পূর্বে প্রতিদিন অন্তত একটি, কখনো কখনো তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশিত হতো, যা এখনকার নীরবতার সঙ্গে ভিন্নতা তৈরি করেছে।
দ্বিতীয়ত, হিব্রু সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গত ৮ মার্চ থেকে নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে, আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
তৃতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল হয়েছে, যা আজকের জন্য নির্ধারিত ছিল। এই বাতিলের পেছনে নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা জড়িত থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
চতুর্থত, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর কথিত টেলিফোন আলাপ নিয়ে ইলিসি প্রাসাদের বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। শুধু একটি লিখিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণত সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
এই সমস্ত ঘটনার সমন্বয়ে হিব্রুভাষী বিভিন্ন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা খণ্ডন আসেনি। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই নীরবতা গুজবকে আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























