ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছে ভারত। এই বিজয়ের মাধ্যমে দলটি শুধু তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেনি, বরং বেশ কয়েকটি নতুন রেকর্ডও স্থাপন করেছে। এর আগে ভারত ২০০৭ এবং ২০২৪ সালে এই শিরোপা জিতেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনবার শিরোপা জেতা প্রথম দল হিসেবে ভারত এক অনন্য নজির স্থাপন করল। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড দুবার করে এই শিরোপা জিতেছিল।
ভারত প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডও নিজেদের দখলে নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার বিরল কীর্তিও অর্জন করেছে তারা। এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ফাইনালে ভারতের ব্যাটিং ছিল বিধ্বংসী। তারা ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে এই আসরের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫৩ রানও করেছিল ভারত। ৯৬ রানের এই জয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
ভারতের জয়ের নায়ক ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন, যিনি ৪৬ বলে ৮৯ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এর আগে এই রেকর্ড ছিল মারলন স্যামুয়েলস ও কেন উইলিয়ামসনের ৮৫ রান। স্যামসন পুরো টুর্নামেন্টে ৩২১ রান করে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েন, যা বিরাট কোহলির ২০১৪ সালের ৩১৯ রানকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি ২৪টি ছক্কাও হাঁকিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
ভারতের ইনিংসের শুরুটা করেন অভিষেক শর্মা, যিনি মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন। অভিষেক ও স্যামসনের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটিও বিশ্বকাপ ফাইনালের নতুন রেকর্ড। তাদের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতেই ৯২ রান তোলে ভারত, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ।
বোলিংয়েও ভারতের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। জসপ্রিত বুমরাহ ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে এক বিরল কীর্তি। এর আগে ২০১২ সালে অজন্তা মেন্ডিস এই কীর্তি গড়েছিলেন। সব মিলিয়ে, ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সম্মিলিত দাপটে ভারত ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।
রিপোর্টারের নাম 

























