দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (ইউনিফিল) একটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতের এই হামলায় ঘানার তিন শান্তিরক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর জাতিসংঘসহ বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কুজা শহরে অবস্থিত ঘানার শান্তিরক্ষী ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে রাতভর ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে তিন শান্তিরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বৈরুতের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ঘানা সরকার এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে জাতিসংঘের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘানার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল। তারা অবিলম্বে এই হামলার নেপথ্যে থাকা দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার কঠোর সমালোচনা করে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জার্মানি বলেছে, শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
লেবানন সরকারও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শান্তিরক্ষীদের ওপর এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে। বিশ্বনেতারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধির অবমাননা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























