পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও ওই পথে জাহাজটি চলাচলের চেষ্টা করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ রুটে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘প্রাইমা’ নামক একটি তেলের ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে আগে থেকেই কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করায় জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এছাড়া ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেসব দেশ তাদের ‘শত্রু রাষ্ট্রগুলোর’ সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছে, সেসব দেশের কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাংকারকে এই প্রণালী দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সেগুলোতে ‘আগুন ধরিয়ে’ দেওয়া হবে।
ইরানের এমন মারমুখী অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা ও পাহারা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে এই হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সাথে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান সংঘাতকে এটি আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















