রংপুর বিভাগে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেট্রোল মজুদ করে রেখেছে এবং গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে না। ফলে, বিভাগের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে পেট্রোলের দেখা মিলছে না, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তির সৃষ্টি করেছে।
শনিবার সকাল থেকেই রংপুরসহ বিভাগের প্রতিটি পাম্পে বাইক, গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হলেও, কোনো পাম্পেই পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের অকটেন নিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য একটি অতিরিক্ত ব্যয় এবং ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানান, “আমি নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি, কিন্তু যে তেল পাম্প থেকে দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার প্রয়োজন চার লিটার, কিন্তু আমি পেয়েছি মাত্র ২০০ টাকার তেল। এখন আমাকে বিভিন্ন দোকান থেকে টাকা সংগ্রহ করতে হবে। সরকার বলছে তেল মজুত আছে, কিন্তু পাম্পগুলো বলছে তেল সংকট। এর একটি সুরাহা হওয়া উচিত।”
আরেকজন গ্রাহক, মাইক ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী বলেন, “পাম্প মালিকরা তেলের সংকট দেখাচ্ছে। তারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর ফন্দি আটছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। পেট্রোল থাকা সত্ত্বেও তারা বিক্রি করছে না, আমাদের অকটেন নিতে হচ্ছে। এই তেলের ব্যবসায়ীদের পোয়া বারো অবস্থা।”
বাইক চালক ব্যাংকার পাপ্পু মিয়া জানান, “আমরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছি। সবার মুখে মুখে তেলের সংকটের কথা শুনে আমিও পাম্পে এসেছি, কিন্তু এখানে এসে দেখি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। অকটেন নিতে হচ্ছে। আল্লাহই জানেন কী সমস্যা।”
তবে, ইউনিক পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারুফুল ইসলাম সিফাত দাবি করেছেন, তেলে কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, “আমরা শুক্রবার সারাদিন পেট্রোল দিয়েছি। কিন্তু শনি ও রবিবার বন্ধ থাকায় ডিপো থেকে তেল নিতে পারিনি। সোমবার ডিপো খুললে আমরা পেট্রোল পাবো এবং তখন পেট্রোল বিক্রি করব। আপাতত অকটেন ও ডিজেল দিচ্ছি।”
এই বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই, শনিবার দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিএসটিআই সেখানে অভিযান চালায়। আদালত পাম্পটিতে মজুদ থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল বিক্রি না করার বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলে। আইন অনুযায়ী, পাম্প মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়ারও সতর্ক করা হয়। এর আগে, একই অপরাধে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকার সিটি পেট্রোল পাম্পের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক জানান, মজুদের তথ্যে গরমিলের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। আইন না মানলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রতিটি পাম্পে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রংপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারিমুল মাওলা বলেন, “তেল যেন অবৈধভাবে মজুত না হয় এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য আমরা প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে অভিযান শুরু করেছি। আমরা মেসার্স ইউনিক পেট্রোল পাম্পে দুটি মেশিন বন্ধ পেয়েছি এবং শুধু অকটেন বিক্রি করতে দেখেছি। এই দুটি মেশিন চালু করা হয়েছে। তাদের কত মজুদ আছে, তা তারা দেখাতে পারেনি, সেজন্য তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে সিটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখি তাদের মজুদ আছে কিন্তু বিক্রি করছে না। তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব জায়গায় যথেষ্ট পরিমাণ সাপ্লাই আছে, কোনো সংকট নেই। গ্রাহকদের গুজবে কান না দেওয়ার এবং অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য অনুরোধ করছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 




















