বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে জাপানের মর্যাদাপূর্ণ সানিক্স কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আজ (৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১টায় জাপান উড়াল দিচ্ছে বিকেএসপি অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল দল। ২১ সদস্যের এই দলটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় ফুকুওকা শহরে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে দেশের নাম উজ্জ্বল করার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করছে।
আগামী ১১ থেকে ১৫ মার্চ জাপানের ফুকুওকা শহরে বসবে সানিক্স কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল লীগের এই আসর। এই প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক জাপানের ১৩টি দলের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বয়সভিত্তিক দলসহ মোট ১৬টি দল অংশ নেবে। সানিক্স কাপ জাপানের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট, যেখানে অতীতে ইতালির এসি মিলান ইয়ুথ ও ইন্টার মিলান ইয়ুথ, নেদারল্যান্ডসের আয়াক্স ইয়ুথ এবং চীন, কোরিয়া ও জাপানের অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের মতো খ্যাতনামা দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
বিকেএসপি দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান। প্রধান কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে যাচ্ছেন বিকেএসপির জাপানি জাইকা কোচ কাই তাগুচি। টুর্নামেন্টের নিয়মানুসারে, ১৬টি দল চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে খেলবে। বিকেএসপি দল ‘ডি’ গ্রুপে জাপানের আরও তিনটি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বিকেএসপি দলের এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পেছনে রয়েছে গত বছরের একটি সফল অভিজ্ঞতা। গত বছর জাপানের মুনাকাটা শহরের ফুকুওকা টকাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সাঁতার সকার ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছিল বিকেএসপি অনূর্ধ্ব-১৭ দল। সেখানে তিন ম্যাচে একটি জয়, একটি ড্র ও একটি হার নিয়ে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। তাদের আকর্ষণীয় ও দৃঢ় খেলায় মুগ্ধ হয়েই আয়োজকরা চলতি বছর সানিক্স আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য বিকেএসপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর সাঁতার সকার ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়া বিকেএসপির সকল খেলোয়াড়ই পরবর্তীতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমনকি সর্বশেষ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রথম একাদশের সব খেলোয়াড়ই ছিলেন বিকেএসপির। সেই দলটি দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রশংসনীয় সাফল্যও অর্জন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, সানিক্স কাপে অংশগ্রহণ দেশের তরুণ ফুটবলারদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়ক হবে।
ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ তরুণ খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 

























