ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

জার্মানির বিশ্বকাপ দলে চমক রাখছেন নাগেলসম্যান

সামনে ফুটবল মহাযজ্ঞ। বৈশ্বিক এ আসরের জন্য জার্মানি একটু একটু করে নিজেদের গড়ে নিচ্ছে। সেরে নিচ্ছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য দল গড়তে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তবে ফিফার এ ফ্ল্যাগশিপ টুর্নামেন্টের জন্য দল গঠনে চমক উপহার দিতে চান এ জার্মান ফুটবল গুরু। শুধু নাম আর চেহারা দেখে, কাউকে দলে জায়গা করে দিতে চান না। সাফ বলে দিয়েছেন, নিজের ক্লাবের শুরুর একাদশে নিয়মিত বা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বা তারকা ফুটবলার হলেই মিলবে না জাতীয় দলে সুযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে আগামী জুন-জুলাইতে মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বকাপ। ১৪ জুন ‘ই’ গ্রুপে জার্মানি কুরাসাওয়ে ম্যাচ দিয়ে শুরু করবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি পুনরুদ্ধারের মিশন। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষÑআইভরিকোস্ট ও ইকুয়েডর। তার আগে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। চলতি মার্চের ২৭ ও ৩০ তারিখ রাতে অ্যাওয়ে ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ও হোম ম্যাচে ঘানাকে মোকাবিলা করবে জার্মানরা। আর ৩১ মে ও ৭ জুন রাতে হোম ম্যাচে ফিনল্যান্ড ও অ্যাওয়ে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে তারা। এই ম্যাচগুলো থেকেই বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড় বেছে নেবেন নাগেলসম্যান।

জার্মানির বিশ্বকাপ দলে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, জামাল মুসিয়ালা ও জশুয়া কিমিচের জায়গা যে নিশ্চিত, এটা হলফ করেই বলে দেওয়া যায়। এই তিনজনই জার্মান টিমের মূল খেলোয়াড়। তবে কিছু কিছু বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্তও নেবেন কোচ। কিকারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছরের নাগেলসম্যান জানিয়েছেন, শুধু ফর্ম দেখেই ফুটবলার নেওয়া হবে না। দলের বিশ্বকাপ অভিযাত্রার সার্বিক পরিকল্পনা ও কাঠামোর সঙ্গে যে বেশি মানিয়ে নিতে পারবেন, তার দিকেই নজর থাকবে কোচের। নাগেলসম্যান বলেন, ‘মূল বিষয় হলো, কারা একসঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এখনই বলতে পারি, এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যা খেলোয়াড়দের তো বটেই, মানুষের জন্যও অবাক করার মতো হবে। ক্লাবের শুরুর একাদশের নিয়মিত সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মার এখানে প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় নাও হতে পারে।’

খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়েছেন নাগেলসম্যান। বায়ার্ন মিউনিখের এ সাবেক কোচের হুঁশিয়ারি, যার কাঁধে যে দায়িত্ব থাকবে, তাকে সেটা পালন করতে হবে। দলের জন্য যা কিছু করার নির্দেশ দেওয়া হবে, মাঠে সেটা করে দেখাতে হবে, ‘প্রথমে খেলোয়াড়দের মৌখিকভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে (মার্চের প্রীতি ম্যাচে) তাদের দেখাতেও হবে যে, নিজেদের কথায় তারা অটল এবং দলের স্বার্থে নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, এটা সবাই করতে পারবে না।’

ক্লাব ফুটবলে খুব একটা নিয়মিত নন। খেলার সুযোগ পান না তেমন একটা। তারপরও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় লেয়ন গোরেটস্কাকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে চান নাগেলসম্যান, ‘এখন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে, লেয়নের সুযোগ পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে এবং ওই একই রকম দায়িত্বে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যে পজিশনে সে খেলেছিল, এমনকি বায়ার্নে সে তেমন সুযোগ না পেলেও (বিশ্বকাপ দলে তাকে দেখা যেতে পারে)। সে খুবই সামর্থ্যবান একজন, যে ডি-বক্সে ঢুকতে পারে, বাতাসে দখলেও দারুণ আর শারীরিক সক্ষমতা দেখাতে পারেন।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানির বিশ্বকাপ দলে চমক রাখছেন নাগেলসম্যান

আপডেট সময় : ০৮:৫০:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

সামনে ফুটবল মহাযজ্ঞ। বৈশ্বিক এ আসরের জন্য জার্মানি একটু একটু করে নিজেদের গড়ে নিচ্ছে। সেরে নিচ্ছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য দল গড়তে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তবে ফিফার এ ফ্ল্যাগশিপ টুর্নামেন্টের জন্য দল গঠনে চমক উপহার দিতে চান এ জার্মান ফুটবল গুরু। শুধু নাম আর চেহারা দেখে, কাউকে দলে জায়গা করে দিতে চান না। সাফ বলে দিয়েছেন, নিজের ক্লাবের শুরুর একাদশে নিয়মিত বা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বা তারকা ফুটবলার হলেই মিলবে না জাতীয় দলে সুযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে আগামী জুন-জুলাইতে মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বকাপ। ১৪ জুন ‘ই’ গ্রুপে জার্মানি কুরাসাওয়ে ম্যাচ দিয়ে শুরু করবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি পুনরুদ্ধারের মিশন। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষÑআইভরিকোস্ট ও ইকুয়েডর। তার আগে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। চলতি মার্চের ২৭ ও ৩০ তারিখ রাতে অ্যাওয়ে ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ও হোম ম্যাচে ঘানাকে মোকাবিলা করবে জার্মানরা। আর ৩১ মে ও ৭ জুন রাতে হোম ম্যাচে ফিনল্যান্ড ও অ্যাওয়ে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে তারা। এই ম্যাচগুলো থেকেই বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড় বেছে নেবেন নাগেলসম্যান।

জার্মানির বিশ্বকাপ দলে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, জামাল মুসিয়ালা ও জশুয়া কিমিচের জায়গা যে নিশ্চিত, এটা হলফ করেই বলে দেওয়া যায়। এই তিনজনই জার্মান টিমের মূল খেলোয়াড়। তবে কিছু কিছু বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্তও নেবেন কোচ। কিকারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছরের নাগেলসম্যান জানিয়েছেন, শুধু ফর্ম দেখেই ফুটবলার নেওয়া হবে না। দলের বিশ্বকাপ অভিযাত্রার সার্বিক পরিকল্পনা ও কাঠামোর সঙ্গে যে বেশি মানিয়ে নিতে পারবেন, তার দিকেই নজর থাকবে কোচের। নাগেলসম্যান বলেন, ‘মূল বিষয় হলো, কারা একসঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এখনই বলতে পারি, এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যা খেলোয়াড়দের তো বটেই, মানুষের জন্যও অবাক করার মতো হবে। ক্লাবের শুরুর একাদশের নিয়মিত সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মার এখানে প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় নাও হতে পারে।’

খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়েছেন নাগেলসম্যান। বায়ার্ন মিউনিখের এ সাবেক কোচের হুঁশিয়ারি, যার কাঁধে যে দায়িত্ব থাকবে, তাকে সেটা পালন করতে হবে। দলের জন্য যা কিছু করার নির্দেশ দেওয়া হবে, মাঠে সেটা করে দেখাতে হবে, ‘প্রথমে খেলোয়াড়দের মৌখিকভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে (মার্চের প্রীতি ম্যাচে) তাদের দেখাতেও হবে যে, নিজেদের কথায় তারা অটল এবং দলের স্বার্থে নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, এটা সবাই করতে পারবে না।’

ক্লাব ফুটবলে খুব একটা নিয়মিত নন। খেলার সুযোগ পান না তেমন একটা। তারপরও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় লেয়ন গোরেটস্কাকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে চান নাগেলসম্যান, ‘এখন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে, লেয়নের সুযোগ পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে এবং ওই একই রকম দায়িত্বে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যে পজিশনে সে খেলেছিল, এমনকি বায়ার্নে সে তেমন সুযোগ না পেলেও (বিশ্বকাপ দলে তাকে দেখা যেতে পারে)। সে খুবই সামর্থ্যবান একজন, যে ডি-বক্সে ঢুকতে পারে, বাতাসে দখলেও দারুণ আর শারীরিক সক্ষমতা দেখাতে পারেন।’