কক্সবাজারের উখিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা পর রেজুখাল থেকে কৌশিক বড়ুয়া বাঁধন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের রেজুরকুল এলাকায় খালের পানিতে ওই কিশোরের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। মৃত বাঁধন স্থানীয় বাসিন্দা পতন বড়ুয়ার ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল থেকে বাঁধনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও ছেলেকে না পেয়ে তার বাবা পতন বড়ুয়া উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছবিসহ নিখোঁজ সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে বাঁধনের এক বন্ধু ঘটনার বর্ণনা দেয়। সে জানায়, সন্ধ্যায় তারা রেজুখালের মোহনায় একটি বরই গাছের নিচে বরই পাড়তে গিয়েছিল। ওই সময় অসাবধানতাবশত বাঁধন খালে পড়ে তলিয়ে যায়। কিন্তু ভয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানায়নি ওই বন্ধু।
ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই খালপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় শত শত মানুষ। নিখোঁজ কিশোরকে ফিরে পাওয়ার আশায় রাতভর সেখানে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় কাটান স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একই সময়ে স্থানীয় বৌদ্ধ বিহারে বাঁধনের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষায় বিশেষ প্রার্থনা ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। অবশেষে শুক্রবার সকালে খালের পানিতে তার নিথর দেহ ভেসে ওঠে।
এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা পতন বড়ুয়া ও মা শিখা বড়ুয়া। তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরণের কুসংস্কার না ছড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। কিশোরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রিপোর্টারের নাম 























