দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচনী কারচুপির মাধ্যমে জনমতকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগে সাবেক দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিলেও ফলাফল ঘোষণার পর্যায়ে সুক্ষ্ম কারচুপি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণ শেষে গণনা ও ফলাফল তৈরির প্রতিটি ধাপে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে জনগণের রায় পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে ‘রাজসাক্ষীর জবানবন্দি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিজেই স্বীকার করেছেন যে একটি নির্দিষ্ট দলকে মূলধারার রাজনীতিতে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। জামায়াত নেতার দাবি, এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অপর সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সমালোচনা করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে পরবর্তী সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ড. খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের বদলে নির্দিষ্ট পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
নির্বাচনের রাতের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, রাত ১০টা পর্যন্ত জামায়াত জোটের প্রার্থীরা যখন বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই রহস্যজনকভাবে ফলাফল প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গভীর রাতে ফলাফল টেম্পারিং করে জামায়াতের আসন সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সুষ্ঠু ভোট হলে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট ১৬৮ থেকে ১৭০টি আসন পেত, কিন্তু ষড়যন্ত্র করে তা ১০০-এর নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সমাবেশে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশে কোনো ধরনের সহিংসতা বা রাজনৈতিক অস্থিরতা চায় না। তারা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় এই অন্যায়ের বিচার চায়। তিনি সরকারকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারের শপথ নেওয়ার এবং কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে নির্বাচনী কারচুপির প্রতিবাদে এবং সাবেক দুই উপদেষ্টার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























