সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বাসভবনে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের গভীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি আসলে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বাসভবনে কোনো সেনা অভিযানের চিত্র নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি সাভারে যৌথ বাহিনীর একটি ভিন্ন অভিযানের দৃশ্য। সেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা নাহিদ এবং তার তিন সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই ঘটনাকেই বিকৃতভাবে সংসদ সদস্যের বাড়িতে অভিযানের নামে প্রচার করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে রিউমর স্ক্যানার ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে একটি স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায়। সেই ভিডিওতে ব্যবহৃত দৃশ্যগুলোর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া গেছে। বিস্তারিত অনুসন্ধানে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই দৃশ্যগুলো সাভারে পরিচালিত একটি সেনা অভিযানের।
এছাড়াও, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনলাইন অনুসন্ধানে একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে সাভারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা নাহিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বাসভবনে কোনো সেনা অভিযানের বিষয়ে কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। সুতরাং, সাভারে সংঘটিত একটি ভিন্ন ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বাড়িতে সেনা অভিযান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে রিউমর স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে।
—
রিপোর্টারের নাম 

























