ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ভিন্ন বাস্তবতায় বইমেলা: চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রত্যয়

নির্ধারিত সময়ের পরে উদ্বোধন, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীর সংখ্যা হ্রাস, রমজানের আবহ এবং সংক্ষিপ্ত সময়সূচির মধ্য দিয়ে এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায় অতিবাহিত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছরের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এবারের মেলা শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্টরা একে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন।

উদ্বোধন, প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হয়।  রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইবেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণত প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হয়। তবে এবার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও রমজানের কারণে মেলা প্রায় এক মাস পিছিয়ে যায়। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮ দিন চলবে এই প্রাণের মেলা।

বইমেলায় এসেছে শিশুটি (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)বইমেলায় এসেছে শিশুটি (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

বইমেলার শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়। সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষের জেরে ৩১টি প্রকাশনী মেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে স্টল ভাড়া মওকুফের পর তারা অংশ নিতে সম্মত হয়। এবার মোট ৫৪৯টি প্রকাশনী মেলায় অংশ নিয়েছে; যা গতবারের (৭০৮টি) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

মেলার সার্বিক পরিস্থিতি ও বিতর্ক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সভাপতি এবং মিতালী প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম বাদশাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা চেয়েছি সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখেই বইমেলা হোক। সরকারও সেটা চেয়েছে বলে সমন্বয় করে আমরা বইমেলা করেছি।

ব্যবসার চেয়ে সংস্কৃতির চর্চাকেই বড় করে দেখছেন রেজাউল করিম বাদশাহ। তিনি বলেন, আমরা বইমেলা করতে পেরেছি, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যটাকে আমরা ধরে রাখতে পেরেছি এটাই বড় কথা।

স্টলে বই দেখছেন তারা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)স্টলে বই দেখছেন তারা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

মেলার বর্তমান চিত্র ও পাঠক সমাগম

মেলার প্রথম কয়েক দিন দর্শনার্থী ও পাঠকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। রোজা এবং দুপুরের তীব্র গরমের কারণে মানুষ দিনের বেলা মেলা প্রাঙ্গণে কম আসছেন। বিশেষ করে লিটলম্যাগ চত্বর ও বেশ কিছু স্টল এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হতে দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের মেলার একটি ইতিবাচক দিক হলো ‘প্রকৃত পাঠক’।

প্রকাশক রেজাউল করিম বাদশাহ উল্লেখ করেন, রোজা চলছে। এর মধ্যে প্রকৃত বইপ্রেমীরাই মেলায় আসছেন। যারা বইকে ছাড়তে পারবে না, তারা আসবেই।

বেচাকেনার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ না, ভালোই চলছে।

পাঠক (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)পাঠক (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

যদিও মেলা প্রাঙ্গণে এখনও কিছু নির্মাণকাজ ও অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তবুও প্রকাশক ও আয়োজকরা মেলার শেষ দিনগুলোতে জনসমাগম বাড়ার বিষয়ে বেশ আশাবাদী। এক প্রকাশকের ভাষায়, সামনের দিনগুলোতে মানুষের ভিড় আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বিকাল ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে। বিকালের রোদে ভিড় কম থাকলেও ইফতারের পর সন্ধ্যার হিমেল হাওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠবে–এমনটাই প্রত্যাশা লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অমর একুশে বইমেলায় তার স্বকীয়তা বজায় রাখবে, এটাই এখন সবার কাম্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চকবাজারে ৭ প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ টাকা জরিমানা

ভিন্ন বাস্তবতায় বইমেলা: চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রত্যয়

আপডেট সময় : ০৮:০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

নির্ধারিত সময়ের পরে উদ্বোধন, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীর সংখ্যা হ্রাস, রমজানের আবহ এবং সংক্ষিপ্ত সময়সূচির মধ্য দিয়ে এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায় অতিবাহিত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছরের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এবারের মেলা শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্টরা একে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন।

উদ্বোধন, প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হয়।  রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইবেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণত প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হয়। তবে এবার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও রমজানের কারণে মেলা প্রায় এক মাস পিছিয়ে যায়। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮ দিন চলবে এই প্রাণের মেলা।

বইমেলায় এসেছে শিশুটি (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)বইমেলায় এসেছে শিশুটি (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

বইমেলার শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়। সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষের জেরে ৩১টি প্রকাশনী মেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে স্টল ভাড়া মওকুফের পর তারা অংশ নিতে সম্মত হয়। এবার মোট ৫৪৯টি প্রকাশনী মেলায় অংশ নিয়েছে; যা গতবারের (৭০৮টি) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

মেলার সার্বিক পরিস্থিতি ও বিতর্ক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সভাপতি এবং মিতালী প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম বাদশাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা চেয়েছি সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখেই বইমেলা হোক। সরকারও সেটা চেয়েছে বলে সমন্বয় করে আমরা বইমেলা করেছি।

ব্যবসার চেয়ে সংস্কৃতির চর্চাকেই বড় করে দেখছেন রেজাউল করিম বাদশাহ। তিনি বলেন, আমরা বইমেলা করতে পেরেছি, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যটাকে আমরা ধরে রাখতে পেরেছি এটাই বড় কথা।

স্টলে বই দেখছেন তারা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)স্টলে বই দেখছেন তারা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

মেলার বর্তমান চিত্র ও পাঠক সমাগম

মেলার প্রথম কয়েক দিন দর্শনার্থী ও পাঠকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। রোজা এবং দুপুরের তীব্র গরমের কারণে মানুষ দিনের বেলা মেলা প্রাঙ্গণে কম আসছেন। বিশেষ করে লিটলম্যাগ চত্বর ও বেশ কিছু স্টল এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হতে দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের মেলার একটি ইতিবাচক দিক হলো ‘প্রকৃত পাঠক’।

প্রকাশক রেজাউল করিম বাদশাহ উল্লেখ করেন, রোজা চলছে। এর মধ্যে প্রকৃত বইপ্রেমীরাই মেলায় আসছেন। যারা বইকে ছাড়তে পারবে না, তারা আসবেই।

বেচাকেনার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ না, ভালোই চলছে।

পাঠক (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)পাঠক (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

যদিও মেলা প্রাঙ্গণে এখনও কিছু নির্মাণকাজ ও অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তবুও প্রকাশক ও আয়োজকরা মেলার শেষ দিনগুলোতে জনসমাগম বাড়ার বিষয়ে বেশ আশাবাদী। এক প্রকাশকের ভাষায়, সামনের দিনগুলোতে মানুষের ভিড় আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বিকাল ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে। বিকালের রোদে ভিড় কম থাকলেও ইফতারের পর সন্ধ্যার হিমেল হাওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠবে–এমনটাই প্রত্যাশা লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অমর একুশে বইমেলায় তার স্বকীয়তা বজায় রাখবে, এটাই এখন সবার কাম্য।