ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ‘অন্ধকারে হয়নি, উভয় দলের সম্মতি ছিল’ – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি কোনো গোপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়নি, বরং জাতীয় নির্বাচনের আগেই দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতি নিয়েই এটি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনের পূর্বেই আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তারা এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং, এই চুক্তি যে ‘অন্ধকারে’ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ সঠিক নয়।

চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এতে ‘এন্ট্রি ক্লজ’ এবং ‘এক্সিট ক্লজ’ উভয়ই রয়েছে। ‘এন্ট্রি ক্লজ’ অনুযায়ী, চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে নোটিফিকেশন জারি করতে হবে এবং সরকার চাইলে তা পর্যালোচনা করতে পারবে। অন্যদিকে, ‘এক্সিট ক্লজ’ বাংলাদেশকে ৬০ দিনের নোটিশে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেয়। এটি কোনো ‘বন্ধ ঘরে’ বাংলাদেশকে ঠেলে দেওয়ার চুক্তি নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তি পাঠে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের চুক্তিটি দেখলে চলবে না, বরং একই সময়ে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশগুলো কী ধরনের চুক্তি করেছে এবং কী সুবিধা পেয়েছে, তার সঙ্গে তুলনা করে দেখা উচিত। এই দেশগুলোর চুক্তির ভাষা ও শর্তাবলী মোটামুটি একই রকম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশ পড়েছে, এমন ধারণাও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকচ করে দেন। তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম আলোচনা শুরু হয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপের পর থেকেই নিবিড় আলোচনা চলতে থাকে। এই আলোচনা শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই নয়, আরও অনেক দেশের সঙ্গে চলেছিল।

এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত টানা আলোচনার ফলস্বরূপ বাংলাদেশ ২০ শতাংশ সুবিধা (সম্ভবত শুল্ক ছাড়) অর্জন করে। ড. খলিলুর রহমান জানান, চুক্তিটি গত বছরের ৩১ জুলাই চূড়ান্ত হয় এবং ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ২০ শতাংশ সুবিধা পেতে শুরু করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিটি নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে তাড়াহুড়ো করে করা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, চুক্তি চূড়ান্তকরণে কিছু সময় লেগেছিল দুটি নির্দিষ্ট বিষয়ের কারণে। এর মধ্যে একটি ছিল, আমেরিকান তুলা বা ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চেয়েছিল, যা বাংলাদেশের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল ‘রুলস অব অরিজিন’ সংক্রান্ত। এই দুটি বিষয় নিষ্পত্তিতেই সময় লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ‘অন্ধকারে হয়নি, উভয় দলের সম্মতি ছিল’ – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি কোনো গোপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়নি, বরং জাতীয় নির্বাচনের আগেই দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতি নিয়েই এটি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনের পূর্বেই আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তারা এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং, এই চুক্তি যে ‘অন্ধকারে’ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ সঠিক নয়।

চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এতে ‘এন্ট্রি ক্লজ’ এবং ‘এক্সিট ক্লজ’ উভয়ই রয়েছে। ‘এন্ট্রি ক্লজ’ অনুযায়ী, চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে নোটিফিকেশন জারি করতে হবে এবং সরকার চাইলে তা পর্যালোচনা করতে পারবে। অন্যদিকে, ‘এক্সিট ক্লজ’ বাংলাদেশকে ৬০ দিনের নোটিশে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেয়। এটি কোনো ‘বন্ধ ঘরে’ বাংলাদেশকে ঠেলে দেওয়ার চুক্তি নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তি পাঠে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের চুক্তিটি দেখলে চলবে না, বরং একই সময়ে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশগুলো কী ধরনের চুক্তি করেছে এবং কী সুবিধা পেয়েছে, তার সঙ্গে তুলনা করে দেখা উচিত। এই দেশগুলোর চুক্তির ভাষা ও শর্তাবলী মোটামুটি একই রকম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশ পড়েছে, এমন ধারণাও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকচ করে দেন। তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম আলোচনা শুরু হয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপের পর থেকেই নিবিড় আলোচনা চলতে থাকে। এই আলোচনা শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই নয়, আরও অনেক দেশের সঙ্গে চলেছিল।

এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত টানা আলোচনার ফলস্বরূপ বাংলাদেশ ২০ শতাংশ সুবিধা (সম্ভবত শুল্ক ছাড়) অর্জন করে। ড. খলিলুর রহমান জানান, চুক্তিটি গত বছরের ৩১ জুলাই চূড়ান্ত হয় এবং ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ২০ শতাংশ সুবিধা পেতে শুরু করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিটি নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে তাড়াহুড়ো করে করা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, চুক্তি চূড়ান্তকরণে কিছু সময় লেগেছিল দুটি নির্দিষ্ট বিষয়ের কারণে। এর মধ্যে একটি ছিল, আমেরিকান তুলা বা ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চেয়েছিল, যা বাংলাদেশের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল ‘রুলস অব অরিজিন’ সংক্রান্ত। এই দুটি বিষয় নিষ্পত্তিতেই সময় লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।