দেশের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে। পহেলা বৈশাখের আগেই কৃষকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে নয়টি উপজেলায় এই পাইলট প্রকল্প শুরু হবে, যার মূল লক্ষ্য প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক সুবিধা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। এই তথ্য জানিয়েছেন কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশীদ।
মন্ত্রী বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হবে এবং পরবর্তীতে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা পহেলা বৈশাখের মধ্যে এটি শুরু করার চিন্তা করছি এবং আশা করি পারবো। প্রথম পর্যায়ে নয়টি উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।” প্রতিটি নির্বাচিত উপজেলার নির্দিষ্ট ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
আমিন উর রশীদ আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষি উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষিজমি, কৃষিপণ্য এবং বিভিন্ন জাতের তথ্যকে একটি সুসংবদ্ধ ব্যবস্থার আওতায় আনা। এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজে সরকারি সহায়তা পাবেন এবং সরকারের কাছেও কৃষি খাতের সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য থাকবে, যা নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রান্তিক ও একেবারে ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। শুরুতে প্রান্তিক কৃষকদের কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যা অনেকটা ‘ফ্যামিলি কার্ডে’র আদলে পরিচালিত হবে।
বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণের বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে একেবারে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আজকের সভায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
কৃষিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যারা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, কেবল তারাই এই প্রকল্পে কৃষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রকৃত ও সক্রিয় কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 



















