ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: পাটগ্রামে ৭ একর তরমুজ ক্ষেতে বিষ, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে সাত একর জমির তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পাঁচ জন কৃষকের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের সরদারপাড়া এলাকার কৃষক ওসমান গণি, আবুল বাশার, শাফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও শাহীনুর রহমান তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে হাইব্রিড ‘মাধুরী’ জাতের তরমুজ চাষ করেছিলেন। তিন মাস আগে রোপণ করা এই ক্ষেতে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বাবদ তাঁরা ১৪-১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন। আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তরমুজগুলো বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠতো। কৃষকদের প্রত্যাশা ছিল, এই তরমুজ থেকে তাঁরা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে তিস্তার এই চরাঞ্চলটি দহগ্রামের জনবসতি এলাকা ছিল। নদীভাঙনে বসতভিটা বিলীন হওয়ার পর পরিবারগুলো অন্যত্র সরে যায়। কয়েক বছর আগে চর জেগে উঠলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সেখানে আবার বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু করে। তিন মাস আগে এই জমিতেই তরমুজ চাষ করা হয়।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, জমি নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। অভিযোগ মতে, আব্দুল মান্নান ও তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ রাতের অন্ধকারে তাঁদের তরমুজ ক্ষেতে আগাছানাশক ছিটিয়ে গাছগুলো নষ্ট করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় কৃষক ওসমান গণি বাদী হয়ে দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কৃষক শাফিউল ইসলাম জানান, গরু-ছাগল বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে তাঁরা এই চাষাবাদ করেছেন। বিষ প্রয়োগে সব গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা এখন দিশেহারা এবং ন্যায়বিচার চান।

গত রোববার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, তিস্তার চরে তরমুজ ক্ষেতে আগাছানাশক প্রয়োগের বিষয়টি সরেজমিন দেখা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ অনেক। গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখতে সেচ, ডিএপি সার বা প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না।

দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) তাজরুল ইসলাম সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: পাটগ্রামে ৭ একর তরমুজ ক্ষেতে বিষ, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে সাত একর জমির তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পাঁচ জন কৃষকের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের সরদারপাড়া এলাকার কৃষক ওসমান গণি, আবুল বাশার, শাফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও শাহীনুর রহমান তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে হাইব্রিড ‘মাধুরী’ জাতের তরমুজ চাষ করেছিলেন। তিন মাস আগে রোপণ করা এই ক্ষেতে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বাবদ তাঁরা ১৪-১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন। আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তরমুজগুলো বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠতো। কৃষকদের প্রত্যাশা ছিল, এই তরমুজ থেকে তাঁরা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে তিস্তার এই চরাঞ্চলটি দহগ্রামের জনবসতি এলাকা ছিল। নদীভাঙনে বসতভিটা বিলীন হওয়ার পর পরিবারগুলো অন্যত্র সরে যায়। কয়েক বছর আগে চর জেগে উঠলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সেখানে আবার বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু করে। তিন মাস আগে এই জমিতেই তরমুজ চাষ করা হয়।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, জমি নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। অভিযোগ মতে, আব্দুল মান্নান ও তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ রাতের অন্ধকারে তাঁদের তরমুজ ক্ষেতে আগাছানাশক ছিটিয়ে গাছগুলো নষ্ট করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় কৃষক ওসমান গণি বাদী হয়ে দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কৃষক শাফিউল ইসলাম জানান, গরু-ছাগল বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে তাঁরা এই চাষাবাদ করেছেন। বিষ প্রয়োগে সব গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা এখন দিশেহারা এবং ন্যায়বিচার চান।

গত রোববার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, তিস্তার চরে তরমুজ ক্ষেতে আগাছানাশক প্রয়োগের বিষয়টি সরেজমিন দেখা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ অনেক। গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখতে সেচ, ডিএপি সার বা প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না।

দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) তাজরুল ইসলাম সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।