ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

রংপুরে ডিস ব্যবসার দ্বন্দ্বে হামলা-হুমকি: বিএনপির দুই নেতা গ্রেপ্তার

রংপুরে ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন তাঁতী দল ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল সোমবার রাতে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রংপুর জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিঠুন এবং জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আজাদ রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে র‌্যাব-১৩ এর একটি দল নগরীর কামাল কাছনার নিজ বাড়ি থেকে গালিবকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মিঠুনকে নগরীর নুরপুর এলাকা থেকে আটক করে।

জানা যায়, নগরীর কামালকাছনা এলাকার ডিশ ব্যবসার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই ফিডের বর্তমান মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন। অভিযোগ উঠেছে, যুবদল নেতা গালিবকে এই ফিডের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য হারুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকার ডিশ লাইন কেটে দেওয়া হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি কানা হারুনের স্ত্রী একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেন। ঘটনার জেরে গত রোববার সন্ধ্যায় নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থিত ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও ম্যানেজার পরাগকে মারধর করা হয়। অভিযোগ ওঠে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু, সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব এবং তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিঠুনসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও, হারুনকে বাদ দিয়ে গালিবকে ফিডের দায়িত্ব দেওয়া না হলে ক্যাবল ওয়ান প্রতিষ্ঠানের জিএম কাফিকে মোবাইল ফোনে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেন এক যুবদল নেতা। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এসব ঘটনায় ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলাতেই মিঠুন এবং গালিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর পরই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি মনু এবং গালিবকে দলের সব পদপদবী থেকে বহিষ্কার করে।

তবে যুবদল নেতাদের অভিযোগ, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুবদল নেতা গালিবকে সরিয়ে অবৈধভাবে ওই এলাকার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন। নিয়ম অনুযায়ী ফিডের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তা দিতে গড়িমসি করছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রিটের আদেশ আজ

রংপুরে ডিস ব্যবসার দ্বন্দ্বে হামলা-হুমকি: বিএনপির দুই নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:৩৮:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

রংপুরে ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন তাঁতী দল ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল সোমবার রাতে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রংপুর জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিঠুন এবং জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আজাদ রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে র‌্যাব-১৩ এর একটি দল নগরীর কামাল কাছনার নিজ বাড়ি থেকে গালিবকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মিঠুনকে নগরীর নুরপুর এলাকা থেকে আটক করে।

জানা যায়, নগরীর কামালকাছনা এলাকার ডিশ ব্যবসার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই ফিডের বর্তমান মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন। অভিযোগ উঠেছে, যুবদল নেতা গালিবকে এই ফিডের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য হারুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকার ডিশ লাইন কেটে দেওয়া হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি কানা হারুনের স্ত্রী একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেন। ঘটনার জেরে গত রোববার সন্ধ্যায় নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থিত ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও ম্যানেজার পরাগকে মারধর করা হয়। অভিযোগ ওঠে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু, সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব এবং তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিঠুনসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও, হারুনকে বাদ দিয়ে গালিবকে ফিডের দায়িত্ব দেওয়া না হলে ক্যাবল ওয়ান প্রতিষ্ঠানের জিএম কাফিকে মোবাইল ফোনে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেন এক যুবদল নেতা। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এসব ঘটনায় ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলাতেই মিঠুন এবং গালিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর পরই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি মনু এবং গালিবকে দলের সব পদপদবী থেকে বহিষ্কার করে।

তবে যুবদল নেতাদের অভিযোগ, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুবদল নেতা গালিবকে সরিয়ে অবৈধভাবে ওই এলাকার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন। নিয়ম অনুযায়ী ফিডের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তা দিতে গড়িমসি করছিল।