সংবিধানের সঙ্গে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এবং এর অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোট অধ্যাদেশ কেন সাংঘর্ষিক ও অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার (নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তবে খবরের সময় অনুযায়ী) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দায়ের করা একটি রিটের শুনানির জন্য আগামী ১ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী শুনানির জন্য এই তারিখ ঠিক করা হয়েছিল।
জানা যায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. দোলোয়ার হোসেন খান।
গত বছরের জুলাই মাসে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। এটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য একটি ঐকমত্যের রাজনৈতিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানিয়েছেন, তার দায়ের করা রিটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কেন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না, সে বিষয়ে আদালতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সনদটির কার্যক্রম স্থগিত রাখারও আবেদন করা হয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আওতায় অনুষ্ঠিত গণভোট নির্বাচন অসাংবিধানিক ও অবৈধ। সনদের অধীনে গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়াটি সংবিধানের ৬৫, ১২৩ (৩) ও (৪) এবং ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এছাড়াও, এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১১ অনুচ্ছেদকেও লঙ্ঘন করে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























