গোপালগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর সঙ্গে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে টুঙ্গিপাড়ায় এমপির নিজ বাসভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি, মৎস্য খাত, বেকারত্ব নিরসন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের প্রস্তাব ও দাবিগুলো তুলে ধরেন। একইসঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোতে গণমাধ্যমের কার্যকর সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারা।
মতবিনিময় সভায় কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, সহ-সভাপতি কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক কালাম তালুকদার এবং ফোরামের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাকালে এম.পি. এস এম জিলানী বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য। এই বিজয় কেবল আমার একার নয়, এটি কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার সকল স্তরের মানুষের বিজয়। আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাসকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব এবং তা রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব।” তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, “রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান—প্রতিটি খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। সাধারণ মানুষ যাতে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে, সেটিই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।”
এমপি জিলানী আরও বলেন, “আমি দলমত নির্বিশেষে সকলের সংসদ সদস্য। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, সবার কল্যাণে কাজ করাই আমার ব্রত। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থই আমার রাজনীতির মূল ভিত্তি।” তিনি তার দরজা সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে জানিয়ে বলেন, “মানুষের সমস্যা, দাবি ও পরামর্শ আমি গুরুত্ব সহকারে শুনব। জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন।”
দুর্নীতি প্রসঙ্গে এম.পি. দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি নিজে কোনো দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করতে আমি কঠোর নজরদারি রাখব। ঠিকাদারি কাজ থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পর্যন্ত—সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোপালগঞ্জ জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জেলার উন্নয়নে কোনো কার্পণ্য না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের অন্যান্য উন্নত জেলার সমতুল্য সুযোগ-সুবিধা গোপালগঞ্জও ভোগ করবে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না। তিনি তার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাদক প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়ে এম.পি. বলেন, “মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভয়াল থাবা একটি পরিবার, সমাজ এমনকি জাতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ায় মাদকের কোনো স্থান হবে না। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যা-ই থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে এবং একই সাথে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন—সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।” তিনি যুবকদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত থাকে এবং মাদকের ছোবল থেকে দূরে থাকে। কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়াকে একটি আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এম.পি. বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনারা সত্য তুলে ধরবেন এবং গঠনমূলক সমালোচনা করবেন—এটাই আমি প্রত্যাশা করি। কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য পেলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করে কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়াকে একটি উন্নত ও মডেল আসনে পরিণত করতে চাই।”
সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 






















