আজ অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়তে চলেছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করবেন বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে, প্রথম ম্যাচেই তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা।
এশিয়ার নারী ফুটবলে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭তম স্থানে থাকা এবং বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চীনের বিপক্ষে লড়াই করবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১২তম স্থানে থাকা নবিশ বাংলাদেশ দল। শক্তি, সামর্থ্য এবং অর্জনের নিরিখে দুই দলের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও, বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা আত্মবিশ্বাসী। আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের মতো খেলোয়াড়রা চীনের সামনে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলে নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে মুখিয়ে আছেন।
গত জুলাইয়ে বাছাই পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ নারী দল এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে তাদের এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নারী দলের কোচ পিটার বাটলার জানান, টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করার জন্য খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং সিডনির মঞ্চে আসতে পেরেছেন।
কোচ বাটলার প্রত্যাশার বেলুন না উড়িয়ে বাস্তবতার নিরিখে কথা বলছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখানে বড় প্রত্যাশা নিয়ে আসিনি। আমাদের বাস্তবিক লক্ষ্যেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই টুর্নামেন্টে আমরা যা অর্জন করতে চাই, সেটি বাস্তবতার নিরিখেই চিন্তা করতে হবে।” তিনি আরও জানান, চীন একটি খুবই শক্তিশালী দল, যারা গতিময় ফুটবল খেলে। তাদের খেলার ধরন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং তারা ভালোভাবেই প্রস্তুত। চীনের বিপক্ষে ম্যাচটিকে তিনি মেয়েদের জন্য বিশ্বকাপ ম্যাচের মতো উল্লেখ করে বলেন, রক্ষণভাগে গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে সেরা ফুটবল খেলতে হবে। কোচের ধারণা, এই ম্যাচটি অনেকটা ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াইয়ের মতো হতে পারে।
বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও ভয়হীন ও লড়াকু ফুটবল খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে কোয়ালিফাই করেছি। আমাদের চেষ্টা থাকবে ভালো কিছু করার। আমাদের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান, তারা অনেক শক্তিশালী টিম। কোচ আমাদের যেভাবে খেলবে বলবে, আমরা ওভাবেই খেলব। আমরা চেষ্টা করব যেন ভালো কিছু করতে পারি।” অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশের সঙ্গে খেলোয়াড়রা বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
—
রিপোর্টারের নাম 

























