ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ, শেয়ারবাজারে ধস

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও।

সোমবার সকালে এশীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। টোকিও সময় দুপুর নাগাদ প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৮ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তেলের মজুদ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো। লেনদেনের শুরুতেই হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ এবং জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ প্রায় ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার ঢেউ লেগেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। নিয়মিত বাজার খোলার আগেই স্টক ফিউচারগুলোতে উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে, যা ওয়াল স্ট্রিটে একটি মন্দা দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফিউচার ট্র্যাকিং অনুযায়ী, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক কম্পোজিট উভয়ই প্রায় ০.৭ শতাংশ পতন নিয়ে লেনদেন করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করব না: ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ, শেয়ারবাজারে ধস

আপডেট সময় : ১০:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও।

সোমবার সকালে এশীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। টোকিও সময় দুপুর নাগাদ প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৮ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তেলের মজুদ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো। লেনদেনের শুরুতেই হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ এবং জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ প্রায় ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার ঢেউ লেগেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। নিয়মিত বাজার খোলার আগেই স্টক ফিউচারগুলোতে উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে, যা ওয়াল স্ট্রিটে একটি মন্দা দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফিউচার ট্র্যাকিং অনুযায়ী, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক কম্পোজিট উভয়ই প্রায় ০.৭ শতাংশ পতন নিয়ে লেনদেন করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।