ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে: ইরান-ইসরাইল সংঘাতে বিধ্বস্ত আবাসন, আমিরাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। গত শুক্রবার দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতেই এই হামলা চালানো হয়। এতে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে এই তীব্র আক্রমণের মুখেও ইরান দমে যায়নি। পাল্টা হিসেবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

ইসরাইলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানের হামলায় তেল আবিবের অন্তত ৪০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দুই শতাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে তিনটি হোটেলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ইসরাইলের বাইত শাম্মাস শহরে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে ইসরাইলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে।

এরই মধ্যে, আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানছে। কাতারের রাজধানী দোহায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে শহর কেঁপে উঠেছে এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য কেন্দ্র দুবাইয়েও, যেখানে বিস্ফোরণের শব্দে শহর কেঁপে ওঠে এবং জাবাল আলি বন্দর থেকে ঘন ধোঁয়া নির্গত হতে দেখা যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে দেশটিতে ইরানের নিক্ষিপ্ত ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া, ইরানের ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত করা হয়েছে। এই হামলায় অন্তত তিন প্রবাসী নিহত এবং আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, ইসরাইলের তেল নফ বিমানঘাঁটি ও তেল আবিবের হাকিরইয়া সেনা কমান্ড হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, ইরানি সামরিক বাহিনী “অনুশোচনা সৃষ্টিকারী আঘাতের মাধ্যমে কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে”। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটিতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সর্বশেষ গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা থাকলেও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আলোচনা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ও রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় আর বাড়বে না

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে: ইরান-ইসরাইল সংঘাতে বিধ্বস্ত আবাসন, আমিরাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। গত শুক্রবার দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতেই এই হামলা চালানো হয়। এতে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে এই তীব্র আক্রমণের মুখেও ইরান দমে যায়নি। পাল্টা হিসেবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

ইসরাইলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানের হামলায় তেল আবিবের অন্তত ৪০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দুই শতাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে তিনটি হোটেলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ইসরাইলের বাইত শাম্মাস শহরে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে ইসরাইলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে।

এরই মধ্যে, আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানছে। কাতারের রাজধানী দোহায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে শহর কেঁপে উঠেছে এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য কেন্দ্র দুবাইয়েও, যেখানে বিস্ফোরণের শব্দে শহর কেঁপে ওঠে এবং জাবাল আলি বন্দর থেকে ঘন ধোঁয়া নির্গত হতে দেখা যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে দেশটিতে ইরানের নিক্ষিপ্ত ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া, ইরানের ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত করা হয়েছে। এই হামলায় অন্তত তিন প্রবাসী নিহত এবং আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, ইসরাইলের তেল নফ বিমানঘাঁটি ও তেল আবিবের হাকিরইয়া সেনা কমান্ড হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, ইরানি সামরিক বাহিনী “অনুশোচনা সৃষ্টিকারী আঘাতের মাধ্যমে কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে”। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটিতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সর্বশেষ গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা থাকলেও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আলোচনা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে।