ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

এক সমন্বিত হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কাঠামোতে আঘাত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরের দিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছে। এই সমন্বিত হামলায় খামেনির পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবরে বলা হয়েছে, এই হামলায় কেবল খামেনিই নন, বরং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আব্দুর রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে মুসলিম বিশ্ব, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একটি “সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করা খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান এক লিখিত বার্তায় বলেন, এই বিয়োগান্তক ঘটনা বর্তমান ইসলামী বিশ্বের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা।

নিহত আলী শামখানি, যিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনি ৭০ বছর বয়সী ছিলেন এবং সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনার তদারকি করছিলেন। এর আগে তিনি ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আব্দুর রহিম মৌসাভি, যিনি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ব্যবস্থা এবং মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন, তিনিও এই হামলায় নিহত হয়েছেন। তার নিয়োগের পরপরই এই হামলা দেশটির সামরিক কাঠামোতে এক বড় আঘাত হেনেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, যিনি পূর্বে বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনিও এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। অতীতে তিনি ইরানের ওপর হামলার জবাবে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, যিনি আশির দশকের ইরাক-ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আইআরজিসির পদাতিক বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন, তার মৃত্যুও দেশটির সামরিক নেতৃত্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুলবাড়ী মডেল প্রেসক্লাবের ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার

এক সমন্বিত হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কাঠামোতে আঘাত

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরের দিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছে। এই সমন্বিত হামলায় খামেনির পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবরে বলা হয়েছে, এই হামলায় কেবল খামেনিই নন, বরং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আব্দুর রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে মুসলিম বিশ্ব, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একটি “সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করা খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান এক লিখিত বার্তায় বলেন, এই বিয়োগান্তক ঘটনা বর্তমান ইসলামী বিশ্বের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা।

নিহত আলী শামখানি, যিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনি ৭০ বছর বয়সী ছিলেন এবং সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনার তদারকি করছিলেন। এর আগে তিনি ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আব্দুর রহিম মৌসাভি, যিনি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ব্যবস্থা এবং মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন, তিনিও এই হামলায় নিহত হয়েছেন। তার নিয়োগের পরপরই এই হামলা দেশটির সামরিক কাঠামোতে এক বড় আঘাত হেনেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, যিনি পূর্বে বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনিও এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। অতীতে তিনি ইরানের ওপর হামলার জবাবে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, যিনি আশির দশকের ইরাক-ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আইআরজিসির পদাতিক বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন, তার মৃত্যুও দেশটির সামরিক নেতৃত্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।