প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আসীন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণ ঘটেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। একাধারে দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের মূল কান্ডারি হিসেবে তিনি ইরানের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের শাসন ব্যবস্থার তুলনায় ইরানের রাজনৈতিক পদ্ধতি বেশ ভিন্ন। সেখানে যদিও নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন, তবে দেশের মূল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। এই পদাধিকারীই রাষ্ট্রের প্রধান এবং সকল বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে ইরানে একটি ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই থেকে দেশটি মাত্র দুজন সুপ্রিম লিডার পেয়েছে, যাদের পদবী হিসেবে ‘আয়াতুল্লাহ’ ব্যবহার করা হয়। শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘আয়াতুল্লাহ’ অর্থ হলো ‘সিনিয়র ধর্মীয় নেতা’।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার দীর্ঘ শাসনামলে দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের পরমাণু কর্মসূচি, জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) সঙ্গে সহযোগিতা কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তার হাতেই ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। এমনকি বহু বছর ধরেই এই প্রশ্ন আলোচনায় ছিল যে, কেন ইরানের অন্য কোনো নেতা নয়, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরানের এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মারা যাওয়ার পর পরবর্তী নেতা কে হবেন বা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে। দেশটির কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় জনগণের নেতা নির্বাচনে কার্যত কোনো ভূমিকা থাকে না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খামেনির সমালোচনা করলেও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতো, যার ফলস্বরূপ কারাবরণও করতে পারতো।
রিপোর্টারের নাম 




















