ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল। কৌশলগত এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জরুরি বার্তা পেয়েছে। বেতারতরঙ্গের মাধ্যমে পাঠানো ওই বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই মুহূর্তে এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌ মিশনের একজন কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তারা এই সরু কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেবে। গতকাল শনিবার সকালে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করল তেহরান।

ভৌগোলিকভাবে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালি। এর একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের মতে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের জন্যও এটি প্রধান পথ।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবরে ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। রোববার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে যে, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়লে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানমন্ত্রীর মায়ের প্রয়াণে বিএনপি মহাসচিবের গভীর শোক

উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল। কৌশলগত এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জরুরি বার্তা পেয়েছে। বেতারতরঙ্গের মাধ্যমে পাঠানো ওই বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই মুহূর্তে এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌ মিশনের একজন কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তারা এই সরু কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেবে। গতকাল শনিবার সকালে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করল তেহরান।

ভৌগোলিকভাবে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালি। এর একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের মতে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের জন্যও এটি প্রধান পথ।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবরে ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। রোববার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে যে, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়লে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করবে।