ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি খাদ্য সহায়তার বস্তায় রাজনৈতিক স্লোগান: বোয়ালমারীতে বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণকালে বস্তায় রাজনৈতিক স্লোগান লেখা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ – এমন স্লোগান সম্বলিত ৩০ কেজি চালের বস্তা বিতরণের ঘটনা স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দুস্থ নারীদের (Vulnerable Women Benefit – VWB) মাঝে এই চাল বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গ্রামীণ দুঃস্থ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতি মাসে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে থাকে। এটি মূলত পূর্বের ভিজিডি (VGD) কর্মসূচির একটি পরিমার্জিত রূপ।

বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ইউনিয়ন পরিষদেই নয়, উপজেলা খাদ্য গুদামেও শত শত চালের বস্তায় একই ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান লেখা রয়েছে।

এ বিষয়ে একজন উপকারভোগী মো. আতিয়ার বলেন, “আমি একজন গরিব মানুষ। ৩০ কেজি চাল পেয়েছি। বস্তায় শেখ হাসিনার নাম লেখা রয়েছে।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, চালের বস্তায় এখনো ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান লেখা রয়েছে। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবেন যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের স্লোগান বা নাম ব্যবহার না করা হয়।

বোয়ালমারী এলএসডি (Local Supply Depot) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, যেসব বস্তায় স্লোগান রয়েছে, সেগুলো রং দিয়ে মুছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বস্তাগুলো যেখান থেকে পাঠানো হয়েছে, সেখানেই এই স্লোগান মুছে দেওয়ার কথা ছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে পুরোনো মজুদের চালের বস্তা বলে ব্যাখ্যা করছেন। আবার অনেকেই মনে করছেন, সরকারি সহায়তার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বস্তায় রাজনৈতিক স্লোগান থাকাটা অনুচিত। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার দিকেই তাকিয়ে আছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘শুভ উদ্বোধন’ ব্যানার, পুড়িয়ে দিল স্বেচ্ছাসেবক দল

সরকারি খাদ্য সহায়তার বস্তায় রাজনৈতিক স্লোগান: বোয়ালমারীতে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণকালে বস্তায় রাজনৈতিক স্লোগান লেখা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ – এমন স্লোগান সম্বলিত ৩০ কেজি চালের বস্তা বিতরণের ঘটনা স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দুস্থ নারীদের (Vulnerable Women Benefit – VWB) মাঝে এই চাল বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গ্রামীণ দুঃস্থ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতি মাসে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে থাকে। এটি মূলত পূর্বের ভিজিডি (VGD) কর্মসূচির একটি পরিমার্জিত রূপ।

বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ইউনিয়ন পরিষদেই নয়, উপজেলা খাদ্য গুদামেও শত শত চালের বস্তায় একই ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান লেখা রয়েছে।

এ বিষয়ে একজন উপকারভোগী মো. আতিয়ার বলেন, “আমি একজন গরিব মানুষ। ৩০ কেজি চাল পেয়েছি। বস্তায় শেখ হাসিনার নাম লেখা রয়েছে।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, চালের বস্তায় এখনো ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান লেখা রয়েছে। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবেন যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের স্লোগান বা নাম ব্যবহার না করা হয়।

বোয়ালমারী এলএসডি (Local Supply Depot) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, যেসব বস্তায় স্লোগান রয়েছে, সেগুলো রং দিয়ে মুছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বস্তাগুলো যেখান থেকে পাঠানো হয়েছে, সেখানেই এই স্লোগান মুছে দেওয়ার কথা ছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে পুরোনো মজুদের চালের বস্তা বলে ব্যাখ্যা করছেন। আবার অনেকেই মনে করছেন, সরকারি সহায়তার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বস্তায় রাজনৈতিক স্লোগান থাকাটা অনুচিত। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার দিকেই তাকিয়ে আছেন এলাকাবাসী।