ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঈদকে সামনে রেখে দর্জিবাড়িতে কারিগরদের দিনরাত কর্মব্যস্ততা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে সাজ সাজ রব। এর মধ্যে ব্যতিক্রম নয় জামালপুরের দর্জিবাড়িগুলোও। উৎসবের আমেজ যত বাড়ছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দর্জি পাড়াগুলোর ব্যস্ততা। সারি সারি সেলাই মেশিন চলছে অবিরাম, আর তার সাথে তাল মিলিয়ে কারিগরদের দুটি পাও যেন বিরতিহীনভাবে চলছে। সূঁচ-সুতোর নিপুণ কারুকাজে পোশাকের মলাটে ফুটে উঠছে ঈদের আনন্দ। দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমই জানান দিচ্ছে আসছে ঈদ।

জামালপুর শহরের প্রতিটি দর্জিবাড়ির চিত্র এখন এমনই। যেকোনো উৎসব-পার্বণে নিজের পছন্দের পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তোলার ঐতিহ্য বাঙালির সংস্কৃতিতে প্রোথিত। তাই ঈদের আগমনী বার্তা যত স্পষ্ট হচ্ছে, ততই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন দর্জিদের দরবারে। ফ্যাশন-সচেতন এবং রুচিশীল ব্যক্তিরা আগেভাগেই নিজেদের পছন্দের নকশায় পোশাক বানিয়ে নিতে ছুটছেন দর্জিবাড়িতে। এই ব্যস্ততা চাঁদ রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে জামালপুর শহরের জামে মসজিদ রোডের তালুকদার মার্কেট, বসাক মার্কেট, তমালতলার কাদের ম্যানশন, রওশন আরা মার্কেট, খান ম্যানশন, মিতালী মার্কেট এবং স্টেশন রোডের বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা যায়, কাউন্টারগুলোতে চলছে নতুন অর্ডার নেওয়ার কাজ। একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট শব্দ, অন্যদিকে গ্রাহকদের মাপজোখ নিচ্ছেন কারিগররা। কাটিং মাস্টাররা মাপ অনুযায়ী নিখুঁতভাবে কাপড় কাটছেন, আর প্রস্তুত হওয়া পোশাকগুলো হ্যাঙ্গারে ঝুলছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে টেইলার্সগুলোতে।

বসাক মার্কেটের লেডিস টেইলার্স জেনিফার টেইলার্সের কাটিং মাস্টার শেফালী রায় জানান, এবছর অর্ডারের পরিমাণ বেশ ভালো। আগামী ১৫ রোজার পর থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের হাতে পোশাক পৌঁছে দিতে রাত-দিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

তালুকদার মার্কেটের প্রবীণ কারিগর খলিলুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও অর্ডারের চাপ বেশি। ঈদের এই সময়ে কাজ বেশি আসে, তাই রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপে খাওয়া-ঘুমের সময়ও পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদের দিন সকাল পর্যন্তও কাজ এবং পোশাক ডেলিভারি দিতে হয়।

তবে অনেক কারিগরদের মতে, সারা বছর তেমন কাজ থাকে না, কেবল ঈদের সময়েই কাজের চাপ বাড়ে। আগের মতো এই পেশায় অনেকেই আসতে চান না, কারণ সবকিছুর দাম বাড়লেও তাদের মজুরি সেভাবে বাড়েনি। এছাড়া, বর্তমানে মানুষ রেডিমেড পোশাক কিনতেই বেশি আগ্রহী।

বোসপাড়ার বাসিন্দা তাসনিম রকিব মনিষা জানান, রেডিমেড পোশাকের চেয়ে দর্জি দিয়ে কাপড় বানালেই ফিটিং এবং ডিজাইন নিজের পছন্দমতো হয়। তিনি জানান, প্রথম দিকেই কাপড় বানাতে এসেছেন, কারণ বেশিরভাগ টেইলার্স ১০ রোজার পর আর অর্ডার নেয় না।

নারীদের নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক বানানোর আগ্রহের পাশাপাশি ছেলেদের মধ্যে পাঞ্জাবির প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যায়। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি দর্জিবাড়িতেও প্রভাব ফেলেছে। বলাকা টেইলার্সের মালিক সৈয়দ সেলিম জামান জানান, তাদের টেইলার্সে প্রতি পিস প্যান্ট সেলাইয়ের মজুরি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, সালোয়ার কামিজ ২৫০ টাকা, ডাবল ব্লাউজ ৩০০, সুতি ব্লাউজ ২৫০, পেটিকোট ১০০, ম্যাক্সি ১২০-১৩০, গাউন ৩০০-৪০০ এবং বোরকা ৩০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

নারী কারিগর রীনা বেগম বলেন, সারা বছরের তুলনায় ঈদের সময়ে কাজের চাপ বেশি থাকলেও এই সময়ে কিছুটা বাড়তি আয় হয়। এই সময়টা একটু চাপের মধ্যে কাটলেও, বাড়তি আয় করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে সব কষ্ট আনন্দের মনে হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

ঈদকে সামনে রেখে দর্জিবাড়িতে কারিগরদের দিনরাত কর্মব্যস্ততা

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে সাজ সাজ রব। এর মধ্যে ব্যতিক্রম নয় জামালপুরের দর্জিবাড়িগুলোও। উৎসবের আমেজ যত বাড়ছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দর্জি পাড়াগুলোর ব্যস্ততা। সারি সারি সেলাই মেশিন চলছে অবিরাম, আর তার সাথে তাল মিলিয়ে কারিগরদের দুটি পাও যেন বিরতিহীনভাবে চলছে। সূঁচ-সুতোর নিপুণ কারুকাজে পোশাকের মলাটে ফুটে উঠছে ঈদের আনন্দ। দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমই জানান দিচ্ছে আসছে ঈদ।

জামালপুর শহরের প্রতিটি দর্জিবাড়ির চিত্র এখন এমনই। যেকোনো উৎসব-পার্বণে নিজের পছন্দের পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তোলার ঐতিহ্য বাঙালির সংস্কৃতিতে প্রোথিত। তাই ঈদের আগমনী বার্তা যত স্পষ্ট হচ্ছে, ততই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন দর্জিদের দরবারে। ফ্যাশন-সচেতন এবং রুচিশীল ব্যক্তিরা আগেভাগেই নিজেদের পছন্দের নকশায় পোশাক বানিয়ে নিতে ছুটছেন দর্জিবাড়িতে। এই ব্যস্ততা চাঁদ রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে জামালপুর শহরের জামে মসজিদ রোডের তালুকদার মার্কেট, বসাক মার্কেট, তমালতলার কাদের ম্যানশন, রওশন আরা মার্কেট, খান ম্যানশন, মিতালী মার্কেট এবং স্টেশন রোডের বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা যায়, কাউন্টারগুলোতে চলছে নতুন অর্ডার নেওয়ার কাজ। একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট শব্দ, অন্যদিকে গ্রাহকদের মাপজোখ নিচ্ছেন কারিগররা। কাটিং মাস্টাররা মাপ অনুযায়ী নিখুঁতভাবে কাপড় কাটছেন, আর প্রস্তুত হওয়া পোশাকগুলো হ্যাঙ্গারে ঝুলছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে টেইলার্সগুলোতে।

বসাক মার্কেটের লেডিস টেইলার্স জেনিফার টেইলার্সের কাটিং মাস্টার শেফালী রায় জানান, এবছর অর্ডারের পরিমাণ বেশ ভালো। আগামী ১৫ রোজার পর থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের হাতে পোশাক পৌঁছে দিতে রাত-দিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

তালুকদার মার্কেটের প্রবীণ কারিগর খলিলুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও অর্ডারের চাপ বেশি। ঈদের এই সময়ে কাজ বেশি আসে, তাই রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপে খাওয়া-ঘুমের সময়ও পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদের দিন সকাল পর্যন্তও কাজ এবং পোশাক ডেলিভারি দিতে হয়।

তবে অনেক কারিগরদের মতে, সারা বছর তেমন কাজ থাকে না, কেবল ঈদের সময়েই কাজের চাপ বাড়ে। আগের মতো এই পেশায় অনেকেই আসতে চান না, কারণ সবকিছুর দাম বাড়লেও তাদের মজুরি সেভাবে বাড়েনি। এছাড়া, বর্তমানে মানুষ রেডিমেড পোশাক কিনতেই বেশি আগ্রহী।

বোসপাড়ার বাসিন্দা তাসনিম রকিব মনিষা জানান, রেডিমেড পোশাকের চেয়ে দর্জি দিয়ে কাপড় বানালেই ফিটিং এবং ডিজাইন নিজের পছন্দমতো হয়। তিনি জানান, প্রথম দিকেই কাপড় বানাতে এসেছেন, কারণ বেশিরভাগ টেইলার্স ১০ রোজার পর আর অর্ডার নেয় না।

নারীদের নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক বানানোর আগ্রহের পাশাপাশি ছেলেদের মধ্যে পাঞ্জাবির প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যায়। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি দর্জিবাড়িতেও প্রভাব ফেলেছে। বলাকা টেইলার্সের মালিক সৈয়দ সেলিম জামান জানান, তাদের টেইলার্সে প্রতি পিস প্যান্ট সেলাইয়ের মজুরি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, সালোয়ার কামিজ ২৫০ টাকা, ডাবল ব্লাউজ ৩০০, সুতি ব্লাউজ ২৫০, পেটিকোট ১০০, ম্যাক্সি ১২০-১৩০, গাউন ৩০০-৪০০ এবং বোরকা ৩০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

নারী কারিগর রীনা বেগম বলেন, সারা বছরের তুলনায় ঈদের সময়ে কাজের চাপ বেশি থাকলেও এই সময়ে কিছুটা বাড়তি আয় হয়। এই সময়টা একটু চাপের মধ্যে কাটলেও, বাড়তি আয় করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে সব কষ্ট আনন্দের মনে হয়।