ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের হুমকি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ পৌর এলাকার হাটবাজারগুলোতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এই লাগামহীন চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন করেছে নতুন হাটখোলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি। এতে মৎস্য আড়তদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া, কাঁচামাল আড়তদার হুমায়ন কবির কল্লোল এবং মাংস ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অর্ধশত ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত ইজারামূল্য নির্ধারণের অজুহাত দেখিয়ে ইজারাদার খেয়ালখুশি মতো ইজারা আদায় করছেন। খাজনার রশিদ ছাড়াই ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন বলে তারা জানান।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পূর্বে ৪০ কেজি কাঁচামালের জন্য চার টাকা খাজনা দিতে হতো। বর্তমানে সেই খাজনা মণপ্রতি ১৬০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে, কুরবান আলি ও হাবিবুর রহমান জানান, ঝিনাইদহ নতুন হাটখোলায় একটি খাসি ছাগল বিক্রি হলে জোরপূর্বক দুই হাজার টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যা পূর্বে ছিল না।

ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনা আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ না করে, তবে হাটবাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে, নতুন হাটখোলা বাজারের ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পূর্বে যেভাবে খাজনা আদায় করা হতো, এখনও সেই নিয়মেই আদায় হচ্ছে এবং নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার তালিকা সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা তা করছেন না, যার ফলে কিছু সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, দ্রুত খাজনার তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা দেখে খাজনা পরিশোধ করতে পারেন। তিনি আশ্বাস দেন, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই এবং এমন কিছু কেউ করলে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানিয়েছেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি বেশি টাকা আদায় করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এক টাকাও যাতে বেশি আদায় করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিলেরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দেশের মন্ত্রীদের ফলপ্রসূ বৈঠক

ঝিনাইদহে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের হুমকি

আপডেট সময় : ০৬:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহ পৌর এলাকার হাটবাজারগুলোতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এই লাগামহীন চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন করেছে নতুন হাটখোলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি। এতে মৎস্য আড়তদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া, কাঁচামাল আড়তদার হুমায়ন কবির কল্লোল এবং মাংস ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অর্ধশত ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত ইজারামূল্য নির্ধারণের অজুহাত দেখিয়ে ইজারাদার খেয়ালখুশি মতো ইজারা আদায় করছেন। খাজনার রশিদ ছাড়াই ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন বলে তারা জানান।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পূর্বে ৪০ কেজি কাঁচামালের জন্য চার টাকা খাজনা দিতে হতো। বর্তমানে সেই খাজনা মণপ্রতি ১৬০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে, কুরবান আলি ও হাবিবুর রহমান জানান, ঝিনাইদহ নতুন হাটখোলায় একটি খাসি ছাগল বিক্রি হলে জোরপূর্বক দুই হাজার টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যা পূর্বে ছিল না।

ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনা আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ না করে, তবে হাটবাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে, নতুন হাটখোলা বাজারের ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পূর্বে যেভাবে খাজনা আদায় করা হতো, এখনও সেই নিয়মেই আদায় হচ্ছে এবং নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার তালিকা সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা তা করছেন না, যার ফলে কিছু সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, দ্রুত খাজনার তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা দেখে খাজনা পরিশোধ করতে পারেন। তিনি আশ্বাস দেন, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই এবং এমন কিছু কেউ করলে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানিয়েছেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি বেশি টাকা আদায় করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এক টাকাও যাতে বেশি আদায় করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিলেরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।