চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে এক পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের একের পর এক মৃত্যুর খবরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমাড়া গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এখনো ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একই পরিবারের আরও ছয় সদস্য।
মর্মান্তিকভাবে নিহতরা হলেন, ১৬ বছর বয়সী শাওন, তার মা নূর জাহান আক্তার রানী (৪০) এবং শাওনের চাচা সামির আহমেদ (৪০)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামির আহমেদের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এর আগে সোমবার সকালে মারা যায় শাওন। আর গত সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাওনের মা নূর জাহান আক্তার রানী। মঙ্গলবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে নূর জাহান আক্তার রানীর মরদেহ দাফন করা হয়। শাওন ও সামিরের মরদেহ মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লায় আসার কথা রয়েছে এবং বুধবার সকাল ৯টায় তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
নিহত সামিরের বন্ধু শওকত হোসেন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “একটার পর একটা মৃত্যুর খবর আমাদের দিশেহারা করে তুলেছে। প্রথমে ভাবি (নূর জাহান), এরপর ভাতিজা শাওন, আর আজ বন্ধু সুমন (সামির) মারা গেল। এই শোক আমরা কীভাবে সামলাব জানি না।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৭ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে (সেহরির সময়) চট্টগ্রামের হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। সেহরির সময় হওয়ায় একই পরিবারের ৯ জন সদস্য সেহরি খাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের পরপরই দগ্ধ অবস্থায় একে একে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
দগ্ধদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
নিহত নূর জাহান আক্তার রানী, শাওন ও সামির ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন— রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তাদের আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং শিপন হোসাইন (৩১)। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















