ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে কে? আলোচনায় আলাল ও রহমাতুল্লাহ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলেও এখনো ঝুলে আছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ভাগ্য। তবে খুব শীঘ্রই এখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিসিসির সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে কার নাম ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অন্য সিটি কর্পোরেশনগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই বরিশালের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং ত্যাগী নেতাদেরই এই পদে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

প্রশাসক পদের দৌড়ে আলোচনায় শীর্ষে থাকা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালেরই সন্তান। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বরিশাল-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি সাড়ে তিনশরও বেশি মামলার শিকার হয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন। দলের চরম দুঃসময়ে রাজপথে অনড় থাকা এই নেতাকে বিসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দল মূল্যায়ন করতে পারে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

অন্যদিকে, আলোচনায় পিছিয়ে নেই কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহও। গত দুই বছর ধরে বরিশালের স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বেশ সক্রিয়। বিশেষ করে বিগত আন্দোলনগুলোতে রাজপথে তার সরব উপস্থিতি সাধারণ কর্মীদের নজর কেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া এই নেতাকেও ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে প্রশাসক পদে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে এই সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের একাংশ চায় স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় ও মাঠপর্যায়ে অবদান রাখা কোনো নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হোক। আবার অন্য অংশ মনে করছে, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিজ্ঞ ও কেন্দ্রীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতার বিকল্প নেই।

শেষ পর্যন্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নগর অভিভাবক হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হয়, তা এখন সময়ের ব্যাপার। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বরিশালবাসী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে দলীয় হাইকমান্ডের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দেশের মন্ত্রীদের ফলপ্রসূ বৈঠক

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে কে? আলোচনায় আলাল ও রহমাতুল্লাহ

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলেও এখনো ঝুলে আছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ভাগ্য। তবে খুব শীঘ্রই এখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিসিসির সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে কার নাম ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অন্য সিটি কর্পোরেশনগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই বরিশালের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং ত্যাগী নেতাদেরই এই পদে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

প্রশাসক পদের দৌড়ে আলোচনায় শীর্ষে থাকা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালেরই সন্তান। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বরিশাল-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি সাড়ে তিনশরও বেশি মামলার শিকার হয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন। দলের চরম দুঃসময়ে রাজপথে অনড় থাকা এই নেতাকে বিসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দল মূল্যায়ন করতে পারে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

অন্যদিকে, আলোচনায় পিছিয়ে নেই কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহও। গত দুই বছর ধরে বরিশালের স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বেশ সক্রিয়। বিশেষ করে বিগত আন্দোলনগুলোতে রাজপথে তার সরব উপস্থিতি সাধারণ কর্মীদের নজর কেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া এই নেতাকেও ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে প্রশাসক পদে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে এই সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের একাংশ চায় স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় ও মাঠপর্যায়ে অবদান রাখা কোনো নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হোক। আবার অন্য অংশ মনে করছে, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিজ্ঞ ও কেন্দ্রীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতার বিকল্প নেই।

শেষ পর্যন্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নগর অভিভাবক হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হয়, তা এখন সময়ের ব্যাপার। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বরিশালবাসী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে দলীয় হাইকমান্ডের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।