রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত এবার এক নারীর সংসার ভেঙে দিল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জেরে স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয়েছেন লাইজী বেগম নামের এক গৃহবধূ। বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের কদমী-দস্তন গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে রুপাপাত ইউনিয়ন মহিলা দল ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগে নামে। এই দলে ১২ জন নারী অংশ নেন, যাদের মধ্যে লাইজী বেগমও ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়ায় এবং লাইজীর গণসংযোগে অংশগ্রহণের খবর জানতে পেরে তার স্বামী ইমামুল শেখ ক্ষুব্ধ হন। এক পর্যায়ে তিনি সবার সামনে লাইজীকে অপমান করেন এবং তাৎক্ষণিক তিন তালাক উচ্চারণ করেন।
এই ঘটনার পর থেকে দুই কন্যাকে নিয়ে লাইজী বেগম তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বড় মেয়ে মরিয়ম (৯) শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ছোট মেয়ে লাইলা (৫) এখনও মায়ের সান্নিধ্য ছাড়া থাকতে পারে না। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে দিন কাটছে লাইজীর।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাইজী বেগম জানান, স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করে আসছিলেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি গণসংযোগে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “সবার সামনে আমাকে অপমান করে তালাক দেওয়া হয়েছে। এখন আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব? আমি ন্যায়বিচার চাই।”
অভিযুক্ত স্বামী ইমামুল শেখ অবশ্য দাবি করেছেন যে তাদের দাম্পত্য কলহ আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, “আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু আমার কথা শোনেনি। পরপুরুষের সঙ্গে ভোট চাইতে গেছে। রাগের মাথায় তালাক দিয়েছি।”
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। রুপাপাত ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি মাহমুদা রহমান বলেন, “একজন নারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ায় তাকে এভাবে তালাক দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন সৈকত বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। একটি নারী সেই অধিকার প্রয়োগ করায় সংসার হারাবে, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
রাজনৈতিক বিভাজন যে শুধু মাঠ পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তা এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে। দুই নিষ্পাপ শিশুর চোখের জল এবং এক মায়ের অসহায়ত্ব এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হয়ে উঠেছে, যা সমাজের মানবিক দিকটিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















