ভারতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি পৃথক বিমান দুর্ঘটনায় দেশটির আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর এবার একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, ক্রু সদস্য এবং রোগীসহ অন্তত ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালের কাছে একটি ঘন জঙ্গল এলাকায়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি থেকে মুম্বাই যাওয়ার পথে সেসনা ক্যারাবান মডেলের ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং পাইলট জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঘন বনাঞ্চলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং নিহতদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী, তার পরিবারের একজন সদস্য, দুই পাইলট ও দুজন মেডিকেল কর্মী রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাজস্থানের যোধপুর সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। তবে ওই ঘটনায় বিমানটির পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন এবং প্রাণে বেঁচে যান। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরপর দুটি বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ভারতের বেসামরিক ও সামরিক উভয় আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উভয় দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত এই দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যায়।
রিপোর্টারের নাম 


















