ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিডিআর হত্যা মামলায় হাসিনাসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম আসার ইঙ্গিত: রাষ্ট্রপক্ষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বিডিআর হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সে সময়ের মন্ত্রিসভার একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে আসামি করা হতে পারে। মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি স্পেশাল পিপি বোরহান উদ্দিন এই তথ্য জানিয়েছেন। তার এই ঘোষণায় মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি বোরহান উদ্দিন জানান, এই মামলায় শেখ হাসিনা, তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, ফজলে নূর তাপসসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আসামি করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্য দিয়ে পিলখানা বিদ্রোহের বিচার প্রক্রিয়ায় এক নতুন মোড় উন্মোচিত হলো।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় এক ভয়াবহ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এই রক্তাক্ত ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে ১৩৯ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে ২৮৩ জন আসামি খালাস পান। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই নতুন ঘোষণার পর মামলার আপিল প্রক্রিয়ায় এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

বিডিআর হত্যা মামলায় হাসিনাসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম আসার ইঙ্গিত: রাষ্ট্রপক্ষ

আপডেট সময় : ১০:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বিডিআর হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সে সময়ের মন্ত্রিসভার একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে আসামি করা হতে পারে। মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি স্পেশাল পিপি বোরহান উদ্দিন এই তথ্য জানিয়েছেন। তার এই ঘোষণায় মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি বোরহান উদ্দিন জানান, এই মামলায় শেখ হাসিনা, তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, ফজলে নূর তাপসসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আসামি করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্য দিয়ে পিলখানা বিদ্রোহের বিচার প্রক্রিয়ায় এক নতুন মোড় উন্মোচিত হলো।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় এক ভয়াবহ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এই রক্তাক্ত ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে ১৩৯ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে ২৮৩ জন আসামি খালাস পান। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই নতুন ঘোষণার পর মামলার আপিল প্রক্রিয়ায় এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।