ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ইসির বড় সিদ্ধান্ত: পোস্টাল ব্যালট বিধিমালা সংশোধন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশন (ইসি) পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের বিদ্যমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। ভোটারদের তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া আরও সহজতর করতে বিধিমালা থেকে ‘ভোটারের ঘোষণাপত্র’ বা অঙ্গীকারনামার বিধান বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কমিশন। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে একাধিক খামের ব্যবহারও কমিয়ে আনা হচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে ভোটারের একটি ঘোষণাপত্র বা অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হয়। এই ঘোষণাপত্রে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও ব্যালট পেপারের নম্বর উল্লেখ থাকে। এর ফলে ভোট গণনার আগে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পক্ষে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয় যে, কোন ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। এতে ভোটারের সাংবিধানিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। ইতিপূর্বে বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও তখন কমিশন বিষয়টি আমলে নেয়নি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য একজন ভোটার যখন নিবন্ধন করেন, তখনই তার পরিচয় ও ছবি নিশ্চিত করা হয়। ফলে আলাদা করে ঘোষণাপত্রের আর কোনো প্রয়োজন নেই। এছাড়া বর্তমানে একটি পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে তিনটি খাম ব্যবহার করতে হয়, যা বেশ জটিল। নতুন সংশোধনীতে ঘোষণাপত্র বাদ দেওয়ার পাশাপাশি খামের সংখ্যাও কমিয়ে দুটি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা যেমন কমবে, তেমনি খরচও সাশ্রয় হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইসির এই সম্ভাব্য উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পোস্টাল ব্যালটে ঘোষণাপত্রের বিষয়টি ছিল মূলত একটি বাড়তি ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ, যা ভোটারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। বিশেষ করে প্রবাসী ও দূরে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য এই পদ্ধতিটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। ঘোষণাপত্র বাতিলের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিশন সূত্রে আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, দ্রুতই এই বিধিমালা সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করা হবে, যাতে আগামী নির্বাচনগুলোতে ভোটাররা কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়াই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ইসির বড় সিদ্ধান্ত: পোস্টাল ব্যালট বিধিমালা সংশোধন

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন কমিশন (ইসি) পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের বিদ্যমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। ভোটারদের তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া আরও সহজতর করতে বিধিমালা থেকে ‘ভোটারের ঘোষণাপত্র’ বা অঙ্গীকারনামার বিধান বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কমিশন। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে একাধিক খামের ব্যবহারও কমিয়ে আনা হচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে ভোটারের একটি ঘোষণাপত্র বা অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হয়। এই ঘোষণাপত্রে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও ব্যালট পেপারের নম্বর উল্লেখ থাকে। এর ফলে ভোট গণনার আগে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পক্ষে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয় যে, কোন ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। এতে ভোটারের সাংবিধানিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। ইতিপূর্বে বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও তখন কমিশন বিষয়টি আমলে নেয়নি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য একজন ভোটার যখন নিবন্ধন করেন, তখনই তার পরিচয় ও ছবি নিশ্চিত করা হয়। ফলে আলাদা করে ঘোষণাপত্রের আর কোনো প্রয়োজন নেই। এছাড়া বর্তমানে একটি পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে তিনটি খাম ব্যবহার করতে হয়, যা বেশ জটিল। নতুন সংশোধনীতে ঘোষণাপত্র বাদ দেওয়ার পাশাপাশি খামের সংখ্যাও কমিয়ে দুটি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা যেমন কমবে, তেমনি খরচও সাশ্রয় হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইসির এই সম্ভাব্য উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পোস্টাল ব্যালটে ঘোষণাপত্রের বিষয়টি ছিল মূলত একটি বাড়তি ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ, যা ভোটারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। বিশেষ করে প্রবাসী ও দূরে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য এই পদ্ধতিটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। ঘোষণাপত্র বাতিলের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিশন সূত্রে আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, দ্রুতই এই বিধিমালা সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করা হবে, যাতে আগামী নির্বাচনগুলোতে ভোটাররা কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়াই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।