ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ১৮ মাসেও বিচার অধরা, নতুন সরকারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। নিহত ও আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলার তদন্ত আরও শ্লথ হয়ে পড়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্তত খোঁজখবর নেওয়া হলেও, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও সরকারের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাইয়ের ঘটনায় চট্টগ্রামে দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্তে তেমন গতি নেই। সাক্ষীদের হাজির করা যাচ্ছে না এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে কোনো আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনও করা হয়নি। নতুন সরকার আসার পর তাদের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদদের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আ.লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরাম। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাঘগুজারা বাজার পাড়ার বাসিন্দা ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ওয়াসিম হত্যার এক মাস পর ১৯ আগস্ট তার মা জোৎস্না বেগম চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওয়াসিমের মা জোৎস্না বেগম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছাত্ররা তার বাড়িতে গেলেও, বর্তমান বিএনপি সরকার আসার পর কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।

গতকাল সোমবার ওয়াসিমের মা জোৎস্না বেগম জানান, তাদের চকরিয়ার সংসদ সদস্য (এমপি) কখনো তার বাড়িতে আসেননি। নির্বাচনের আগে শুধু কয়েকটি অনুষ্ঠানে তার স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলেটা তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। কিন্তু যারা ওকে কেড়ে নিল, তাদের বিচার যেন আমার জীবদ্দশায় দেখি, এইটাই এখন আমার একমাত্র চাওয়া। সে পড়ালেখা করে মানুষ হতে চেয়েছিল। সেই স্বপ্নটাই শেষ হয়ে গেল।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “বিএনপির শপথ অনুষ্ঠানে আমার স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এক গ্লাস পানিও দেয়নি। রাতে বসায় রেখেছিল। আমার স্বামী ডায়াবেটিস রোগী ছিলেন। নতুন সরকার আসার পর কেউ বাসায় আসা দূরে থাক, একটা কলও দেয়নি। এখন সন্দেহ জাগছে, আমার ছেলে হত্যার বিচার হবে তো?”

একই দিন, একই সময়ে আ.লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন ফয়সাল আহমেদ শান্ত। তিনি চট্টগ্রামের ওমরগনি এমইএস কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শান্তর মা কহিনুর আক্তার বলেন, “বিএনপির শপথ অনুষ্ঠানে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে খোলা জায়গায় রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে বাধ্য হয়ে আমরা চলে আসি। নতুন সরকার আসার পর কেউ একবার খোঁজ নিল না। বিএনপি সরকারের আচরণ দেখলে বোঝাই যায় তারা কতটা আন্তরিক। যাদের রক্তের বিনিময়ে এই সরকার এসেছে, তারা যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই গাদ্দারি করে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? এখন আর বিচার আশা করি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেদিন শান্তকে হারাই, সেদিনই আমাদের ঘরটা ভেঙে যায়। এতদিন ধরে শুধু বিচারের আশ্বাসই শুনছি। নতুন সরকার আসার পর ভেবেছিলাম কেউ হয়তো পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু কেউই আসেনি। মনে হয়, আমার সন্তানের রক্তের দাম কারো কাছে নেই।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আ.লীগ সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সন্তান ওমর নুরুল আবছার। তার মা রুবি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেকে হারিয়েছি দেড় বছর হলো। প্রথম দিকে পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন এসেছে, আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর কেউ আর খোঁজ নেয় না। মামলার কী হলো, তদন্ত কতটুকু হয়েছে, কেউ কিছু বলে না। আমার ছেলে হত্যার বিচারের জন্য যদি প্রয়োজন হয়, আবার রাস্তায় নামব।”

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুরুতর আহত হন ফেনীর ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মাহবুবুল আলম মাসুম। তার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৭ আগস্ট অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাসুমের ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমাদের পরিবারের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়। মাহবুবুল শুধু পড়াশোনা করছিল, কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আমরা চাই বিচারের ব্যবস্থা হোক। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নতুন সরকার এসেছে, অথচ কেউ আমাদের খোঁজও নেয়নি।”

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ১৫১টি মামলার মধ্যে ৬৯টি নগর ও জেলার ৯টি থানায় দায়ের করা হয়েছে। বাকিগুলো আদালতে দায়েরকৃত নালিশি মামলা (সিআর)। এসব মামলায় নাম উল্লেখ থাকা আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫০ জন এবং অজ্ঞাত পরিচয় আসামির সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার। আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর নাম যেমন রয়েছে, তেমনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছেন। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, থানায় হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট ২১ হাজার ৯০৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ বলেন, “একটি মামলায় প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ১৮ মাসেও বিচার অধরা, নতুন সরকারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা

আপডেট সময় : ০৬:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। নিহত ও আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলার তদন্ত আরও শ্লথ হয়ে পড়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্তত খোঁজখবর নেওয়া হলেও, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও সরকারের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাইয়ের ঘটনায় চট্টগ্রামে দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্তে তেমন গতি নেই। সাক্ষীদের হাজির করা যাচ্ছে না এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে কোনো আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনও করা হয়নি। নতুন সরকার আসার পর তাদের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদদের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আ.লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরাম। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাঘগুজারা বাজার পাড়ার বাসিন্দা ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ওয়াসিম হত্যার এক মাস পর ১৯ আগস্ট তার মা জোৎস্না বেগম চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওয়াসিমের মা জোৎস্না বেগম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছাত্ররা তার বাড়িতে গেলেও, বর্তমান বিএনপি সরকার আসার পর কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।

গতকাল সোমবার ওয়াসিমের মা জোৎস্না বেগম জানান, তাদের চকরিয়ার সংসদ সদস্য (এমপি) কখনো তার বাড়িতে আসেননি। নির্বাচনের আগে শুধু কয়েকটি অনুষ্ঠানে তার স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলেটা তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। কিন্তু যারা ওকে কেড়ে নিল, তাদের বিচার যেন আমার জীবদ্দশায় দেখি, এইটাই এখন আমার একমাত্র চাওয়া। সে পড়ালেখা করে মানুষ হতে চেয়েছিল। সেই স্বপ্নটাই শেষ হয়ে গেল।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “বিএনপির শপথ অনুষ্ঠানে আমার স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এক গ্লাস পানিও দেয়নি। রাতে বসায় রেখেছিল। আমার স্বামী ডায়াবেটিস রোগী ছিলেন। নতুন সরকার আসার পর কেউ বাসায় আসা দূরে থাক, একটা কলও দেয়নি। এখন সন্দেহ জাগছে, আমার ছেলে হত্যার বিচার হবে তো?”

একই দিন, একই সময়ে আ.লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন ফয়সাল আহমেদ শান্ত। তিনি চট্টগ্রামের ওমরগনি এমইএস কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শান্তর মা কহিনুর আক্তার বলেন, “বিএনপির শপথ অনুষ্ঠানে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে খোলা জায়গায় রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে বাধ্য হয়ে আমরা চলে আসি। নতুন সরকার আসার পর কেউ একবার খোঁজ নিল না। বিএনপি সরকারের আচরণ দেখলে বোঝাই যায় তারা কতটা আন্তরিক। যাদের রক্তের বিনিময়ে এই সরকার এসেছে, তারা যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই গাদ্দারি করে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? এখন আর বিচার আশা করি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেদিন শান্তকে হারাই, সেদিনই আমাদের ঘরটা ভেঙে যায়। এতদিন ধরে শুধু বিচারের আশ্বাসই শুনছি। নতুন সরকার আসার পর ভেবেছিলাম কেউ হয়তো পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু কেউই আসেনি। মনে হয়, আমার সন্তানের রক্তের দাম কারো কাছে নেই।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আ.লীগ সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সন্তান ওমর নুরুল আবছার। তার মা রুবি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেকে হারিয়েছি দেড় বছর হলো। প্রথম দিকে পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন এসেছে, আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর কেউ আর খোঁজ নেয় না। মামলার কী হলো, তদন্ত কতটুকু হয়েছে, কেউ কিছু বলে না। আমার ছেলে হত্যার বিচারের জন্য যদি প্রয়োজন হয়, আবার রাস্তায় নামব।”

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুরুতর আহত হন ফেনীর ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মাহবুবুল আলম মাসুম। তার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৭ আগস্ট অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাসুমের ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমাদের পরিবারের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়। মাহবুবুল শুধু পড়াশোনা করছিল, কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আমরা চাই বিচারের ব্যবস্থা হোক। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নতুন সরকার এসেছে, অথচ কেউ আমাদের খোঁজও নেয়নি।”

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ১৫১টি মামলার মধ্যে ৬৯টি নগর ও জেলার ৯টি থানায় দায়ের করা হয়েছে। বাকিগুলো আদালতে দায়েরকৃত নালিশি মামলা (সিআর)। এসব মামলায় নাম উল্লেখ থাকা আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫০ জন এবং অজ্ঞাত পরিচয় আসামির সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার। আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর নাম যেমন রয়েছে, তেমনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছেন। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, থানায় হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট ২১ হাজার ৯০৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ বলেন, “একটি মামলায় প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন।”