ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১২ মার্চ বসছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: শুরুতেই উত্তপ্ত হওয়ার আভাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত সোমবার এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ দীর্ঘ সময় পর একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদীয় পরিবেশ উপহার দেবে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে প্রথম অধিবেশন থেকেই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্যদের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা শুরুতেই উত্তাপ ছড়াতে পারে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার চেষ্টা, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও যানজটের মতো জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপিত হতে পারে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর একটি আসন ছেড়ে দিয়েছেন, ফলে বর্তমানে এককভাবে বিএনপির আসন সংখ্যা ২০৮টি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার নিয়ম থাকায় ১৪ মার্চের আগেই এই অধিবেশন শুরু হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তবে বিগত সংসদের স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের কারাবাসের কারণে প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্ব নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। এক্ষেত্রে রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সিনিয়র সংসদ সদস্য প্রথম বৈঠক পরিচালনা করতে পারেন। আলোচনায় রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জয়নুল আবদিন ফারুক ও হাফিজ উদ্দিন আহমদের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। তবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাদ দিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা জয়নুল আবদিন ফারুকের মধ্য থেকেই কেউ সভাপতিত্ব করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলগুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও আইন প্রণয়ন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তারা সংসদে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চান। জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো এবং ইতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি চালু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও সংসদকে কার্যকর করার বিষয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, বিগত বছরগুলোতে সংসদ একটি নির্দিষ্ট পরিবারের বৃত্তে বন্দি থাকলেও এবার জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরা সংসদে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এবারের সংসদে উচ্চশিক্ষিত এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের আধিক্য থাকায় সংসদীয় বিতর্কের মান উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের সংসদে ব্যবসায়ীদের চেয়ে পেশাজীবীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি জনমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাতে একতরফা সিদ্ধান্তে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও তারা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১২ মার্চের অধিবেশনটি দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

১২ মার্চ বসছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: শুরুতেই উত্তপ্ত হওয়ার আভাস

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত সোমবার এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ দীর্ঘ সময় পর একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদীয় পরিবেশ উপহার দেবে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে প্রথম অধিবেশন থেকেই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্যদের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা শুরুতেই উত্তাপ ছড়াতে পারে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার চেষ্টা, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও যানজটের মতো জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপিত হতে পারে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর একটি আসন ছেড়ে দিয়েছেন, ফলে বর্তমানে এককভাবে বিএনপির আসন সংখ্যা ২০৮টি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার নিয়ম থাকায় ১৪ মার্চের আগেই এই অধিবেশন শুরু হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তবে বিগত সংসদের স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের কারাবাসের কারণে প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্ব নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। এক্ষেত্রে রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সিনিয়র সংসদ সদস্য প্রথম বৈঠক পরিচালনা করতে পারেন। আলোচনায় রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জয়নুল আবদিন ফারুক ও হাফিজ উদ্দিন আহমদের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। তবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাদ দিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা জয়নুল আবদিন ফারুকের মধ্য থেকেই কেউ সভাপতিত্ব করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলগুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও আইন প্রণয়ন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তারা সংসদে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চান। জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো এবং ইতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি চালু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও সংসদকে কার্যকর করার বিষয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, বিগত বছরগুলোতে সংসদ একটি নির্দিষ্ট পরিবারের বৃত্তে বন্দি থাকলেও এবার জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরা সংসদে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এবারের সংসদে উচ্চশিক্ষিত এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের আধিক্য থাকায় সংসদীয় বিতর্কের মান উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের সংসদে ব্যবসায়ীদের চেয়ে পেশাজীবীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি জনমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাতে একতরফা সিদ্ধান্তে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও তারা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১২ মার্চের অধিবেশনটি দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।