ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে চাঁদ, বাড়ছে শক্তিশালী ‘চন্দ্রকম্পের’ ঝুঁকি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদকে নিয়ে নতুন এক উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদ ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে এবং এর ফলে এর পৃষ্ঠতলে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য নতুন ফাটল। এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে চাঁদে পা রাখা নভোচারীরা ভয়াবহ ‘চন্দ্রকম্প’ বা ভূমিকম্পের মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের ‘সেন্টার ফর আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি স্টাডিজ’-এর এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা চাঁদের বুকে ১ হাজার ১১৪টি নতুন ফাটল বা শৈলশিরা শনাক্ত করেছেন, যা আগে অজানা ছিল। গবেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে চাঁদের অভ্যন্তরীণ অংশ ক্রমান্বয়ে শীতল হচ্ছে, যার প্রভাবে এর উপরিভাগ সংকুচিত হয়ে আসছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের এই সংকোচন প্রক্রিয়ায় প্রচণ্ড চাপে ভূত্বকের এক অংশ অন্য অংশের ওপর উঠে যায়। এর ফলে সেখানে পাহাড়ের মতো শৈলশিরার সৃষ্টি হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘লোবেট স্কার্পস’ বলা হয়। বিজ্ঞানীরা এবারই প্রথম চাঁদের ‘লুনার মারিয়া’ নামক বিশাল অন্ধকার সমতল অঞ্চলে এ ধরনের ফাটলের ব্যাপক উপস্থিতি নথিবদ্ধ করেছেন।

গবেষক কোল নাইপাভার এই আবিষ্কারকে চন্দ্রবিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, চাঁদের এই টেকটোনিক কাঠামো ও ভূমিকম্পের কার্যকলাপ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। কারণ, নাসার আসন্ন ‘আর্টেমিস’ মিশনের মতো প্রকল্পগুলোর সাফল্য এবং সেখানে অবস্থানরত নভোচারীদের নিরাপত্তা সরাসরি এই ভৌগোলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। শক্তিশালী চন্দ্রকম্প যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।

নতুন এই গবেষণায় যুক্ত হওয়া ১ হাজার ১১৪টি ফাটলসহ চাঁদে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬৩৪টি এ ধরনের ফাটল শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ফাটলগুলো গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ বছরের পুরোনো। চাঁদের অভ্যন্তরীণ গঠন, তাপীয় ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বুঝতে এই তথ্যগুলো বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাচ্ছে। মূলত ২০১০ সাল থেকেই চাঁদের আয়তন কমে যাওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞানীদের নজরে আসে, যা বর্তমান গবেষণায় আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও কাটছে না চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা

ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে চাঁদ, বাড়ছে শক্তিশালী ‘চন্দ্রকম্পের’ ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১১:১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদকে নিয়ে নতুন এক উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদ ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে এবং এর ফলে এর পৃষ্ঠতলে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য নতুন ফাটল। এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে চাঁদে পা রাখা নভোচারীরা ভয়াবহ ‘চন্দ্রকম্প’ বা ভূমিকম্পের মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের ‘সেন্টার ফর আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি স্টাডিজ’-এর এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা চাঁদের বুকে ১ হাজার ১১৪টি নতুন ফাটল বা শৈলশিরা শনাক্ত করেছেন, যা আগে অজানা ছিল। গবেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে চাঁদের অভ্যন্তরীণ অংশ ক্রমান্বয়ে শীতল হচ্ছে, যার প্রভাবে এর উপরিভাগ সংকুচিত হয়ে আসছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের এই সংকোচন প্রক্রিয়ায় প্রচণ্ড চাপে ভূত্বকের এক অংশ অন্য অংশের ওপর উঠে যায়। এর ফলে সেখানে পাহাড়ের মতো শৈলশিরার সৃষ্টি হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘লোবেট স্কার্পস’ বলা হয়। বিজ্ঞানীরা এবারই প্রথম চাঁদের ‘লুনার মারিয়া’ নামক বিশাল অন্ধকার সমতল অঞ্চলে এ ধরনের ফাটলের ব্যাপক উপস্থিতি নথিবদ্ধ করেছেন।

গবেষক কোল নাইপাভার এই আবিষ্কারকে চন্দ্রবিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, চাঁদের এই টেকটোনিক কাঠামো ও ভূমিকম্পের কার্যকলাপ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। কারণ, নাসার আসন্ন ‘আর্টেমিস’ মিশনের মতো প্রকল্পগুলোর সাফল্য এবং সেখানে অবস্থানরত নভোচারীদের নিরাপত্তা সরাসরি এই ভৌগোলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। শক্তিশালী চন্দ্রকম্প যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।

নতুন এই গবেষণায় যুক্ত হওয়া ১ হাজার ১১৪টি ফাটলসহ চাঁদে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬৩৪টি এ ধরনের ফাটল শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ফাটলগুলো গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ বছরের পুরোনো। চাঁদের অভ্যন্তরীণ গঠন, তাপীয় ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বুঝতে এই তথ্যগুলো বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাচ্ছে। মূলত ২০১০ সাল থেকেই চাঁদের আয়তন কমে যাওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞানীদের নজরে আসে, যা বর্তমান গবেষণায় আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হলো।