পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে রাজধানীর প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার কারওয়ান বাজারে চিনি, তেল, ছোলা ও মাংসসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলনের বিশেষ অনুরোধে সাড়া দিয়ে সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত জানান। ‘ইসলামিয়া শান্তি সমিতি’ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সভার আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে সংহতি প্রকাশ করে সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করে নয়, বরং তাদের নৈতিকতাবোধ ও রমজানের পবিত্রতাকে সম্মান জানিয়ে আমি দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। ব্যবসায়ীরা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, কেবল মুরগি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই একটি চক্র ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। এসব অনিয়ম বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের জোর-জবরদস্তি করে নয়, বরং ভালোবেসে উদ্বুদ্ধ করে আমরা দাম কমিয়েছি।”
ব্যবসায়ীদের ঘোষণা অনুযায়ী, রমজানে প্রতি পিস লেবুতে ২ টাকা, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ১ টাকা, চিনিতে ১ টাকা এবং ছোলায় কেজিপ্রতি ২ টাকা কমানো হয়েছে। এছাড়া ২০০ গ্রামের ট্যাংয়ের প্যাকেটে ৫ টাকা, গরুর মাংসের কেজিতে ৩০ টাকা এবং মিনিকেট চালের দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা কমিয়ে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দরের বিস্তারিত তুলে ধরে কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন জানান, বর্তমানে ভালো মানের যে লেবু ১৭ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ১৫ টাকায় পাওয়া যাবে। তেলের বাজারে স্বস্তি দিতে ৫ লিটারের বোতলে ৫ টাকা ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তেল বিক্রেতারা। এর ফলে ৯২০ টাকার তেল ৯১৫ টাকায় মিলবে।
চিনি ও ছোলার দাম প্রসঙ্গে জানানো হয়, বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি ১০২ টাকার পরিবর্তে ১০১ টাকায় এবং ছোলা ৮৫ টাকার বদলে ৮৩ টাকায় বিক্রি হবে। পানীয়র ক্ষেত্রে ২ কেজির ট্যাংয়ের জার ১ হাজার ৫৮০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫৬০ টাকায় এবং ছোট বক্স ৩৮০ টাকার বদলে ৩৭৫ টাকায় বিক্রি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি কেজি গরুর মাংস এখন থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হবে, যা আগে ছিল ৭৮০ টাকা। অন্যদিকে চাল ব্যবসায়ীরা তাদের মুনাফা থেকে ১ টাকা ছাড় দিয়ে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮১ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দেন। মূলত সাধারণ মানুষের রমজানের ব্যয় কিছুটা কমিয়ে আনতেই ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























