ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা ওজনের যুদ্ধবিমান ‘তেজস’ আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ল। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে সোমবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ)।
বিমান বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে ঘাঁটিতে ফিরে আসছিল একক আসনের এই তেজস বিমানটি। তবে অবতরণের চূড়ান্ত মুহূর্তে হঠাতই বিমানটির ব্রেক অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুদ্ধবিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশ্য বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই পাইলট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন, ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজস যুদ্ধবিমানটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনেটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) তৈরি করেছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের প্রায় ৩০টি একক আসনের তেজস বিমানকে সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে (গ্রাউন্ডেড)। কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করতে বর্তমানে বিমানগুলো নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এটি তেজস যুদ্ধবিমানের তৃতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে জয়সলমিরের কাছে প্রথমবার একটি তেজস বিধ্বস্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল দুবাই এয়ার শো চলাকালীন, যেখানে উইং কমান্ডার নমন স্যালে প্রাণ হারান। সবশেষ ৭ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনাটি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের নিজস্ব প্রযুক্তির সুরক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















