মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর ইসলামের ইতিহাসে এক চরম সংকটময় মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। সে সময় আরবের বিভিন্ন প্রান্তে যারা ইসলাম ত্যাগ করে বিদ্রোহের পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর পত্র প্রেরণ করেন। ইতিহাসে এই পত্রটি ইসলামের ভিত্তি সুসংহত করার এবং বিদ্রোহীদের দমনে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
খলিফা আবু বকর (রা.) তাঁর পত্রে স্পষ্ট করে দেন যে, যারা ইসলামে অবিচল রয়েছেন, তাদের ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি তওহীদের শিক্ষা পুনরুল্লেখ করে বলেন, মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত একজন মানুষ ও নবী। ইসলাম পূর্ণতা পাওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় রাসূলকে দুনিয়া থেকে নিয়ে গেছেন। কিন্তু মহান আল্লাহ চিরঞ্জীব ও অবিনশ্বর। যারা কেবল ব্যক্তির উপাসনা করত, তাদের জন্য মহানবীর মৃত্যু একটি বিয়োগান্তক ঘটনা হতে পারে, কিন্তু যারা প্রকৃত আল্লাহর ইবাদতকারী, তাদের জানা উচিত আল্লাহ তায়ালা তন্দ্রা বা নিদ্রায় আচ্ছন্ন হন না। তিনি তাঁর বিধানের সুরক্ষায় সদা জাগ্রত এবং শত্রুদের প্রতি কঠোর।
ইসলাম ত্যাগকারীদের সতর্ক করে খলিফা আবু বকর (রা.) পত্রে উল্লেখ করেন, শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে যারা ধর্মদ্রোহের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয়েছে, তাদের সংবাদ খেলাফতের কাছে পৌঁছেছে। তিনি তাঁর সেনাপতিদের বিশেষ নির্দেশ দিয়ে বলেন, যুদ্ধের আগে যেন এই পত্রটি বিদ্রোহীদের পড়ে শোনানো হয়। যারা পুনরায় ইসলামে ফিরে আসবে এবং ইসলামের বিধানগুলো মেনে নেবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু যারা হঠকারিতা ও বিদ্রোহ অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পত্রে খলিফা আরও জোর দিয়ে বলেন, ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ‘যাকাত’ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। যারা ইসলামের অনুশাসন মেনে নেবে কিন্তু যাকাত দিতে অস্বীকার করবে, তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। পত্রে সকলকে তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের উপদেশ দেওয়া হয় এবং স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, আল্লাহর হেদায়েত ছাড়া কেউ সঠিক পথ পেতে পারে না।
ঐতিহাসিক এই পত্রটি কেবল একটি সতর্কবার্তা ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামের অস্তিত্ব ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রথম খলিফার অটল সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ‘তারিখে তাবারি’র দ্বিতীয় খণ্ডে এই পত্রের বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























