ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করলে কঠোর ব্যবস্থা, সংস্কারের মাধ্যমে মনোবল ফেরানোর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আইনি কার্যক্রমে কোনো ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশের বৈধ কাজে কেউ যদি অবৈধভাবে বাধা সৃষ্টি করে বা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক—যেকোনো পরিচয়ই হোক না কেন, পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কারো নেই। আমরা চাই পুলিশ স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করুক। তবে পুলিশকেও সজাগ থাকতে হবে যাতে তাদের কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ কোনোভাবে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হয়।”

পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এই কথাটি আমরা কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না, বরং বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী পুলিশি কাঠামোর বিকল্প নেই। তাই আমরা এই বাহিনীকে আমূল সংস্কার করতে চাই এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমেই সেই সংস্কার প্রক্রিয়া সফল করা সম্ভব।

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের শাসনামলে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ধ্বংস করা হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সংগতি রেখেই আমাদের কাজ করতে হবে। বাহিনীর সদস্যদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করতে বর্তমানে মোটিভেশনাল কার্যক্রম চলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। তাদের সমস্যা শুনব এবং সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেব। পেছনের ব্যর্থতা ও গ্লানি ভুলে আমরা একটি জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সামনের দিকে তাকাতে চাই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি

পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করলে কঠোর ব্যবস্থা, সংস্কারের মাধ্যমে মনোবল ফেরানোর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১০:৫০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আইনি কার্যক্রমে কোনো ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশের বৈধ কাজে কেউ যদি অবৈধভাবে বাধা সৃষ্টি করে বা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক—যেকোনো পরিচয়ই হোক না কেন, পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কারো নেই। আমরা চাই পুলিশ স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করুক। তবে পুলিশকেও সজাগ থাকতে হবে যাতে তাদের কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ কোনোভাবে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হয়।”

পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এই কথাটি আমরা কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না, বরং বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী পুলিশি কাঠামোর বিকল্প নেই। তাই আমরা এই বাহিনীকে আমূল সংস্কার করতে চাই এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমেই সেই সংস্কার প্রক্রিয়া সফল করা সম্ভব।

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের শাসনামলে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ধ্বংস করা হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সংগতি রেখেই আমাদের কাজ করতে হবে। বাহিনীর সদস্যদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করতে বর্তমানে মোটিভেশনাল কার্যক্রম চলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। তাদের সমস্যা শুনব এবং সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেব। পেছনের ব্যর্থতা ও গ্লানি ভুলে আমরা একটি জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সামনের দিকে তাকাতে চাই।