ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিলখানা ট্র্যাজেডির বিচারে নতুন কমিশন গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুনরায় একটি তদন্ত কমিশন গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, এই কমিশন ঘটনার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান উপদেষ্টা।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। বিগত সরকারের সময় পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ অপেশাদার একটি প্রক্রিয়া। যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। আমরা এই পুরো প্রক্রিয়াটি পুনর্মূল্যায়ন করছি এবং সার্ভিস রেকর্ড দেখে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সংস্কার আনছি।

পুলিশের কর্মপরিবেশ ও সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশের বৈধ কাজে কেউ কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বা বাধা প্রদান করতে পারবে না। সেটি রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক—যে পর্যায় থেকেই হোক না কেন, হস্তক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশকেও জনবান্ধব হতে হবে এবং তাদের কার্যক্রম যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এই স্লোগানকে আমরা শুধু মুখে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না, বাস্তবে রূপ দিতে চাই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে পুলিশসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে শক্তিশালী পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তাই আমরা তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে এবং বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে ব্যাপক সংস্কার কাজ শুরু করেছি।

উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু পুলিশ নয়, গত দেড় দশকে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে আমরা নিরলস কাজ করছি। কর্মকর্তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে আমি নিজেই বিভিন্ন বিভাগে যাব এবং তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেব। অতীতের জঞ্জাল পরিষ্কার করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি

পিলখানা ট্র্যাজেডির বিচারে নতুন কমিশন গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুনরায় একটি তদন্ত কমিশন গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, এই কমিশন ঘটনার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান উপদেষ্টা।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। বিগত সরকারের সময় পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ অপেশাদার একটি প্রক্রিয়া। যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। আমরা এই পুরো প্রক্রিয়াটি পুনর্মূল্যায়ন করছি এবং সার্ভিস রেকর্ড দেখে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সংস্কার আনছি।

পুলিশের কর্মপরিবেশ ও সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশের বৈধ কাজে কেউ কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বা বাধা প্রদান করতে পারবে না। সেটি রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক—যে পর্যায় থেকেই হোক না কেন, হস্তক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশকেও জনবান্ধব হতে হবে এবং তাদের কার্যক্রম যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এই স্লোগানকে আমরা শুধু মুখে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না, বাস্তবে রূপ দিতে চাই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে পুলিশসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে শক্তিশালী পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তাই আমরা তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে এবং বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে ব্যাপক সংস্কার কাজ শুরু করেছি।

উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু পুলিশ নয়, গত দেড় দশকে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে আমরা নিরলস কাজ করছি। কর্মকর্তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে আমি নিজেই বিভিন্ন বিভাগে যাব এবং তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেব। অতীতের জঞ্জাল পরিষ্কার করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।