ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গর্ভাবস্থায় রোজা: মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার উপায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাসে গর্ভবতী মায়েরা রোজা রাখবেন কিনা, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। মা ও অনাগত শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেসব মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, অতিরিক্ত বমি অথবা পূর্ববর্তী গর্ভধারণে জটিলতা দেখা গিয়েছিল, তাদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়:

সেহরির সময় লাল চালের ভাত, আটার রুটি, ডিম, ডাল, দুধ, বাদাম, ফল ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত। এই খাবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত, কারণ পানিশূন্যতা গর্ভাবস্থায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চা, কফি এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করে ধীরেসুস্থে সুষম খাবার গ্রহণ করা ভালো। একবারে বেশি খাবার খেলে অস্বস্তি হতে পারে।

বিশ্রাম ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা:

গর্ভবতী নারীদের দিনের বেলায় হালকা কাজ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে অথবা মা বা শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর কোনো খারাপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে রোজা ভেঙে ফেলার সুযোগ রয়েছে।

ঝুঁকির লক্ষণ ও করণীয়:

কিছু নির্দিষ্ট সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন: শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, তীব্র তৃষ্ণা অথবা রক্তপাত। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে রোজা ভেঙে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সাপ্লিমেন্ট ও অন্যান্য টিপস:

গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। সাধারণত ইফতার বা সেহরির পর এই সাপ্লিমেন্টগুলো গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, দিনের কিছু কাজ যদি রাতে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তবে তা দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তাই মা ও শিশুর সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি

গর্ভাবস্থায় রোজা: মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার উপায়

আপডেট সময় : ১০:২৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে গর্ভবতী মায়েরা রোজা রাখবেন কিনা, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। মা ও অনাগত শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেসব মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, অতিরিক্ত বমি অথবা পূর্ববর্তী গর্ভধারণে জটিলতা দেখা গিয়েছিল, তাদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়:

সেহরির সময় লাল চালের ভাত, আটার রুটি, ডিম, ডাল, দুধ, বাদাম, ফল ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত। এই খাবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত, কারণ পানিশূন্যতা গর্ভাবস্থায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চা, কফি এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করে ধীরেসুস্থে সুষম খাবার গ্রহণ করা ভালো। একবারে বেশি খাবার খেলে অস্বস্তি হতে পারে।

বিশ্রাম ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা:

গর্ভবতী নারীদের দিনের বেলায় হালকা কাজ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে অথবা মা বা শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর কোনো খারাপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে রোজা ভেঙে ফেলার সুযোগ রয়েছে।

ঝুঁকির লক্ষণ ও করণীয়:

কিছু নির্দিষ্ট সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন: শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, তীব্র তৃষ্ণা অথবা রক্তপাত। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে রোজা ভেঙে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সাপ্লিমেন্ট ও অন্যান্য টিপস:

গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। সাধারণত ইফতার বা সেহরির পর এই সাপ্লিমেন্টগুলো গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, দিনের কিছু কাজ যদি রাতে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তবে তা দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তাই মা ও শিশুর সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।