রমজান মাস উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনজীবন নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আজ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয় থেকে টেলিফোনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সাথে আলাপকালে এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী ফোনালাপে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি বিশেষ করে এই রমজান মাসে স্থানীয় পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ও সুষম ব্যবহারের ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জেলা প্রশাসকদের ভূমি সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে, আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রজ্ঞার সাথে সমাধানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, এলাকার যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পার্বত্য এলাকায় কোনো প্রকার দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তদন্তে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ও ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ কমিটি গঠন করে এদের চিহ্নিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়াও, বান্দরবানের লামা থেকে শুরু হতে যাওয়া সরকারের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম যেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে তিনি বান্দরবান জেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে: স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিক সংখ্যক বৃক্ষ চারা রোপণ এবং তিন জেলাতেই পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ। মন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও যুব উন্নয়নের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদারকি করার জন্যও জেলা প্রশাসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























