ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী আমলের অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনা, ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইস্যু করা অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই প্রক্রিয়ায় লাইসেন্সধারীর যোগ্যতা ও লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা, তা যাচাই করা হবে। একইসাথে, নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে ১০ হাজারেরও বেশি অস্ত্র জমা না পড়ায় সেগুলো অবৈধ ঘোষণা করে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী লাইসেন্স পাওয়ার উপযুক্ত কিনা, এবং লাইসেন্স প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের লাইসেন্স বৈধ বলে বিবেচিত হবে, সেগুলো বহাল রাখা হবে। তবে, যদি দেখা যায় যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তবে সেগুলো বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ বিষয়ে দ্রুত একটি সার্কুলার জারি করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বর্তমানে দেশে কতগুলো অস্ত্রের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সধারী অস্ত্র রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ১০ হাজারেরও বেশি অস্ত্র জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র এখন আইনগতভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং প্রয়োজনে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু সুবিধাবাদী মানুষ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অনেক নির্দোষ, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। এসব মামলার সত্যতা যাচাই করা হবে।

পুলিশ সুপারদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিধির বাইরে রাজনৈতিক কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রটোকল দেওয়া যাবে না।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি সরকারের ইশতেহারে রয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুনঃতদন্ত বা কমিশন গঠন করা হবে। এছাড়া, পুলিশের যারা বিভিন্ন সময়ে পদবঞ্চিত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভয়নগরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৭; রণক্ষেত্র ভাটপাড়া বাজার

আওয়ামী আমলের অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনা, ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইস্যু করা অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই প্রক্রিয়ায় লাইসেন্সধারীর যোগ্যতা ও লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা, তা যাচাই করা হবে। একইসাথে, নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে ১০ হাজারেরও বেশি অস্ত্র জমা না পড়ায় সেগুলো অবৈধ ঘোষণা করে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী লাইসেন্স পাওয়ার উপযুক্ত কিনা, এবং লাইসেন্স প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের লাইসেন্স বৈধ বলে বিবেচিত হবে, সেগুলো বহাল রাখা হবে। তবে, যদি দেখা যায় যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তবে সেগুলো বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ বিষয়ে দ্রুত একটি সার্কুলার জারি করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বর্তমানে দেশে কতগুলো অস্ত্রের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সধারী অস্ত্র রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ১০ হাজারেরও বেশি অস্ত্র জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র এখন আইনগতভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং প্রয়োজনে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু সুবিধাবাদী মানুষ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অনেক নির্দোষ, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। এসব মামলার সত্যতা যাচাই করা হবে।

পুলিশ সুপারদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিধির বাইরে রাজনৈতিক কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রটোকল দেওয়া যাবে না।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি সরকারের ইশতেহারে রয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুনঃতদন্ত বা কমিশন গঠন করা হবে। এছাড়া, পুলিশের যারা বিভিন্ন সময়ে পদবঞ্চিত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।