দেশের সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যম বর্তমানে এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এই প্রেক্ষাপটে সরকার সাংবাদিকদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সোমবার চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। ৪০২ জন সাংবাদিকের সন্তানকে কল্যাণ তহবিলের অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, গণমাধ্যমকে সম্মান জানানো এবং এই পেশার মানুষের সম্মান ও মর্যাদাকে কীভাবে আরও উঁচুতে তোলা যায়, তা নিয়ে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান তথ্য সরবরাহের মূল কাজ থেকে সরে এসে অন্যান্য এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। কেউ কেউ ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) বা বিভ্রান্তিকর তথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়ানোর তৎপরতায় লিপ্ত অথবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকার এসব বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে, যাতে জনগণ প্রকৃত ও অবাধ তথ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
জহির উদ্দিন স্বপন জোর দিয়ে বলেন, সরকারের কাজগুলো সাংবাদিক সমাজ ছাড়া সম্ভব নয়। সে কারণে মন্ত্রণালয়ের প্রধান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন সাংবাদিকরাই। তিনি বলেন, “আমরা চাই আপনাদের পরিবার, সন্তানকে নিয়ে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা মনোযোগের অংশীদার হতে।” বিতরণ করা অনুদানের চেক প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এই উদ্যোগকে কেবল অর্থের দিক থেকে বিচার করবেন না, বরং সাংবাদিকদের প্রতি আমাদের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখবেন।”
প্রবীণ সাংবাদিকদের বিষয়ে মন্ত্রী তার আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের জন্য দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি সাংবাদিকদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, চিকিৎসা সেবার কথাও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার কোনো একটি হাসপাতাল বা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করবে, যাতে সাংবাদিকরা নিয়মিত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন। ভবিষ্যতের সুযোগ, সম্ভাবনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় সাংবাদিক সমাজের জন্য আরও কী কী সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে, সে ব্যাপারেও সরকার মনোযোগী হয়ে উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে জানান, এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০২ জন সাংবাদিকের পরিবারকে অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের জন্য কল্যাণ ট্রাস্টের এই ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে। প্রবীণ সাংবাদিকদের চিকিৎসার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য শাহীন হাসনাত।
রিপোর্টারের নাম 





















