ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের বিদেশনীতিতে বিতর্কিত মোড়: ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ও আদর্শিক প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের ঐতিহ্যবাহী উপনিবেশবিরোধী পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঐতিহাসিক সংহতির অবস্থান থেকে সরে এসে দেশটি এখন ইসরায়েলের সঙ্গে এক গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ইসরায়েল সফর এই বিতর্কিত সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী মৈত্রী গড়ে উঠেছে। ইসরায়েল বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং ভারত ইসরায়েলি প্রযুক্তির একটি প্রধান বাজার। এই পারস্পরিক নির্ভরতা দুই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ ও উচ্চ-আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করেছে।

তবে এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলকে ক্রমবর্ধমান ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী, ঔপনিবেশিক, সামরিকবাদী এবং বিশ্বের একমাত্র সরকারি বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হয়। এমন একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের মৈত্রী দেশটির উপনিবেশবিরোধী ও মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘদিনের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিশেষ করে কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ডানপন্থী ও সংখ্যালঘুবিরোধী নীতিকে উৎসাহিত করার অভিযোগে ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্ব প্রায়শই সমালোচিত হয়। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক সংহতির অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এমন এক ‘দখলদারিত্বের নীতিমালা’ ভিত্তিক ‘সহাবস্থানমূলক’ সম্পর্ক হিসেবে অভিযুক্ত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী মোদির আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার তৃতীয় মেয়াদের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি বিদ্যমান বিতর্ককেও নতুন করে উসকে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফর ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে আদর্শ ও কৌশলগত বাস্তবতার মধ্যে এক টানাপোড়েনকে সামনে নিয়ে আসছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের দিকে আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

ভারতের বিদেশনীতিতে বিতর্কিত মোড়: ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ও আদর্শিক প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের ঐতিহ্যবাহী উপনিবেশবিরোধী পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঐতিহাসিক সংহতির অবস্থান থেকে সরে এসে দেশটি এখন ইসরায়েলের সঙ্গে এক গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ইসরায়েল সফর এই বিতর্কিত সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী মৈত্রী গড়ে উঠেছে। ইসরায়েল বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং ভারত ইসরায়েলি প্রযুক্তির একটি প্রধান বাজার। এই পারস্পরিক নির্ভরতা দুই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ ও উচ্চ-আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করেছে।

তবে এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলকে ক্রমবর্ধমান ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী, ঔপনিবেশিক, সামরিকবাদী এবং বিশ্বের একমাত্র সরকারি বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হয়। এমন একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের মৈত্রী দেশটির উপনিবেশবিরোধী ও মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘদিনের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিশেষ করে কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ডানপন্থী ও সংখ্যালঘুবিরোধী নীতিকে উৎসাহিত করার অভিযোগে ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্ব প্রায়শই সমালোচিত হয়। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক সংহতির অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এমন এক ‘দখলদারিত্বের নীতিমালা’ ভিত্তিক ‘সহাবস্থানমূলক’ সম্পর্ক হিসেবে অভিযুক্ত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী মোদির আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার তৃতীয় মেয়াদের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি বিদ্যমান বিতর্ককেও নতুন করে উসকে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফর ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে আদর্শ ও কৌশলগত বাস্তবতার মধ্যে এক টানাপোড়েনকে সামনে নিয়ে আসছে।