একসময় মোবাইল ফোন ছিল বিরল এক যন্ত্র, আর ইন্টারনেট ছিল এক কল্পনার বিষয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ, ব্যবসা, বিনোদন কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং—সবকিছুই এখন ইন্টারনেটনির্ভর। আর এই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা যখন পকেটে পুরে যেখানে খুশি সেখানে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ মেলে, তখন সেটি হয়ে ওঠে এক অসাধারণ সঙ্গী। বিশেষত ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই ‘পকেট ওয়াইফাই’ বা ‘মিনি রাউটার’ এনেছে এক নতুন দিগন্ত।
স্মার্টফোনের কল্যাণে আমাদের জীবনযাত্রা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাও এখন মৌলিক চাহিদার মতো। মোবাইল ডেটা বা বাড়ির ফিক্সড ওয়াইফাই রাউটার যেখানে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে পকেট ওয়াইফাই। এই ছোট আকারের ডিভাইসটি সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
এই বহনযোগ্য ওয়াইফাই ডিভাইসটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি আপনার পকেটে বা ব্যাগে নিয়ে যেকোনো স্থানে যেতে পারবেন। এটি একইসাথে একাধিক ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে সক্ষম। বিশেষ করে যারা ঘন ঘন ভ্রমণ করেন বা অফিসের কাজে বাইরে যান, তাদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর। সাধারণ মোবাইল হটস্পটের তুলনায় পকেট রাউটারগুলো সাধারণত অধিক স্থিতিশীল সিগন্যাল এবং তুলনামূলক ভালো গতি সরবরাহ করে, বিশেষ করে যখন একাধিক ডিভাইস সংযুক্ত থাকে। এটি সাধারণত 3G ও 4G LTE নেটওয়ার্ক সমর্থন করে, যা দ্রুত অনলাইন কাজ সম্পাদনে সহায়ক।
পকেট ওয়াইফাই ব্যবহারে তারের কোনো ঝামেলা নেই। একটি সিম কার্ড প্রবেশ করিয়ে এটি চালু করলেই বিভিন্ন ডিভাইসে ইন্টারনেট সরবরাহ শুরু করে। এটি অনেকটা মোবাইল ফোনের হটস্পটের মতোই কাজ করে, তবে অনেক ক্ষেত্রে এর কর্মক্ষমতা ও কাভারেজ বেশি হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সুইচের মাধ্যমে এটি অন-অফ করা যায়। বিদ্যুৎ সংযোগে চার্জ দিয়ে এর ব্যাটারি সচল রাখতে হয়। তাই দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে চার্জ ফুরিয়ে গেলে দ্রুত চার্জ দেওয়া যায়। অধিকাংশ পকেট রাউটার সহজে সেটআপ করা যায় এবং এর জন্য কোনো বিশেষ প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। এটি প্রায় ৫০০-৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত এলাকায় ওয়াইফাই কাভারেজ দিতে পারে।
সাধারণ ব্যবহার যেমন ইউটিউব দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা বা অনলাইন ক্লাস করার জন্য পকেট ওয়াইফাই যথেষ্ট ভালো কাজ করে। তবে যদি আপনার ডুয়াল ব্যান্ড এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট প্রয়োজন হয়, তাহলে বাজারে উপলব্ধ উচ্চতর মডেলগুলো বিবেচনা করা উচিত। কেনার আগে আপনার প্রয়োজন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। আপনি কি শুধু একটি ফোন চালাবেন, নাকি একাধিক ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন একইসাথে ব্যবহার করবেন? কতজন ব্যবহারকারী এবং কী ধরনের গতি আপনার প্রয়োজন—এসব বিষয় ভালোভাবে ভেবে নেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন মডেলের পকেট রাউটারের কার্যক্ষমতা ও দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সর্বোপরি, আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ব্যবহারের ধরন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক পকেট ওয়াইফাই নির্বাচন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক পরিকল্পনা আপনাকে স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও স্বচ্ছন্দ ও আনন্দময় করে তুলতে সাহায্য করবে।
রিপোর্টারের নাম 





















