রমজান মাসজুড়ে রোজাদারদের প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে আমিষ পৌঁছে দিতে নাটোরে দুধ ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কার্যক্রমে প্রতি লিটার দুধ ৭০ টাকা এবং প্রতি হালি ডিম মাত্র ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। রমজানের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে ২৫ রমজান পর্যন্ত।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রমজানের শুরু থেকেই জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় চত্বরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লিটার দুধ এবং ৬০০ পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে। এই কার্যক্রমের আওতায় জেলার গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, লালপুর এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ও একই সুবিধা দিচ্ছে।
সুলভ মূল্যে পণ্য পেয়ে খুশি ক্রেতারা। আকিব জাহান অপু নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি ৩০ টাকা হালি দরে তিন হালি ডিম কিনেছেন। যেখানে বাজারে প্রতি হালি ডিমের দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, সেখানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে তার ৩০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। অপর ক্রেতা ছমিরন বেওয়া বলেন, “৭০ টাকায় এক লিটার দুধ কিনলাম। দুধের মানও ভালো। তবে যদি এক লিটারের বেশি কেনার সুযোগ থাকত, তবে আরও উপকৃত হতাম।”
এই কার্যক্রম সফল করতে খামারিরাও সহযোগিতা করছেন। জিসান পোল্ট্রি হ্যাচারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেছার আহমেদ জিসান জানান, প্রতিদিন তাদের হ্যাচারি থেকে ৬০০ পিস ডিম প্রাণিসম্পদ বিভাগকে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সুলভ মূল্যে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা উপকৃত হচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, রমজানে রোজাদারদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এবং সাধারণ মানুষের আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে জেলা ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন ও খামারিদের সহযোগিতায় এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই কার্যক্রমের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
রিপোর্টারের নাম 




















