ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চকরিয়ায় মাংস বিক্রেতাকে হত্যার অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদ মুজিব (৪৫) নামে একজন মাংস বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের শাহ ওমর মাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ মুজিব ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কসাইপাড়া এলাকার মৃত ফকির মোহাম্মদ এর ছেলে। তিনি একজন পেশাদার মাংস বিক্রেতা ছিলেন। স্থানীয় বাজারে মাংস বিক্রি করতেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ মুজিবকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় একই এলাকার আরিফ নামের এক যুবক। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহ ওমর মাজারের পাশে হাত-পা ও মুখে কসটেপ (টেপ) বাঁধা অবস্থায় মুজিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে হাসপাতালের চিকিৎসক মুজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মুজিবের ছোট ভাই আবদুল মালেক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক আরিফ একই এলাকার মোহাম্মদ জহিরের ছেলে।

পুলিশের ধারণা, মুজিবকে হত্যার পর আটক আরিফ ডাকাতির ঘটনা বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রচার করেছেন। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি থাকায় তাকে আটক করা হয়।

নিহত মুজিবের পরিবারের দাবি, পুলিশের অভিযানে আটক আরিফের সাথে তাদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনায় থানা ও আদালতে মামলাও বিচারাধীন। স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, আরিফ একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বাবাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গাঁজাসহ একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা গ্রেপ্রতার হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবারো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, মুজিবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, পুলিশের অভিযানে আটক আরিফ নিজেকে বাঁচাতে ডাকাতির ঘটনাটি প্রচার করেছেন। আরিফের সঙ্গে মুজিবের পূর্ববিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরেই আরিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

চকরিয়ায় মাংস বিক্রেতাকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদ মুজিব (৪৫) নামে একজন মাংস বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের শাহ ওমর মাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ মুজিব ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কসাইপাড়া এলাকার মৃত ফকির মোহাম্মদ এর ছেলে। তিনি একজন পেশাদার মাংস বিক্রেতা ছিলেন। স্থানীয় বাজারে মাংস বিক্রি করতেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ মুজিবকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় একই এলাকার আরিফ নামের এক যুবক। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহ ওমর মাজারের পাশে হাত-পা ও মুখে কসটেপ (টেপ) বাঁধা অবস্থায় মুজিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে হাসপাতালের চিকিৎসক মুজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মুজিবের ছোট ভাই আবদুল মালেক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক আরিফ একই এলাকার মোহাম্মদ জহিরের ছেলে।

পুলিশের ধারণা, মুজিবকে হত্যার পর আটক আরিফ ডাকাতির ঘটনা বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রচার করেছেন। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি থাকায় তাকে আটক করা হয়।

নিহত মুজিবের পরিবারের দাবি, পুলিশের অভিযানে আটক আরিফের সাথে তাদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনায় থানা ও আদালতে মামলাও বিচারাধীন। স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, আরিফ একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বাবাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গাঁজাসহ একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা গ্রেপ্রতার হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবারো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, মুজিবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, পুলিশের অভিযানে আটক আরিফ নিজেকে বাঁচাতে ডাকাতির ঘটনাটি প্রচার করেছেন। আরিফের সঙ্গে মুজিবের পূর্ববিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরেই আরিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।