গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পবিত্র কোরআনের অবমাননার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে উপজেলার ফকিরহাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবনাপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট মদিনাতুল ক্বওমি মাদ্রাসার আয়োজনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসলামবিদ্বেষী দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে ফকিরহাট থেকে শুরু করে স্থানীয় গোডাউন বাজার পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পবিত্র কোরআনের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলে রাখে। সকালে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা হতবাক হয়ে যান। খবর পেয়ে ফকিরহাট মদিনাতুল ক্বওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিঁড়ে ফেলা পৃষ্ঠাগুলো কুড়িয়ে একত্র করেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একত্রিত হয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে মাওলানা হাফেজ মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ফকিরহাট আল্লাহর দরগা দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা শফিউল আলম, মাওলানা মনজুরুল ইসলাম, খন্দকার মাওলানা শফিউল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা মুফতি হাফিজুর রহমান, মাওলানা শাহারুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে, যার উদ্দেশ্য এলাকায় অরাজকতা ও বিভেদ সৃষ্টি করা।
মানববন্ধনে পবনাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের অর্থ সম্পাদক আব্দুর সবুর, পবনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ প্রধান, ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পাপুল সরকার, দপ্তর সম্পাদক শুভ সরকার, ফকিরহাট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রদল সভাপতি মফিদুল প্রধান, সমাজসেবক মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান। তারা বলেন, পবিত্র কোরআনের অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এই ধরনের কাজ যারা করে তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং সম্প্রীতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওলানা মুফতি মো. রেজাউল করিম। এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 




















