ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: জহর সরকারের কূটনৈতিক বিশ্লেষণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং অভিজ্ঞ কূটনীতিক জহর সরকার এক তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির উচিত ধৈর্য ধরে ঢাকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নতুন করে ঝালাই করে নেওয়া। ভারতের জন্য এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দৃশ্যমান না হয়ে বরং পর্দার আড়ালে থেকে সম্পর্ক মেরামতের কাজে মনোনিবেশ করা অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি মনে করেন। জহর সরকারের পর্যবেক্ষণে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি এবং হাসিনা যেন ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ান।

ভারতীয় এই কূটনীতিকের মতে, ভারতের নীতিতে এখন একটি বড় ধরনের বদল পরিলক্ষিত হচ্ছে। দিল্লি এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে, কেবল একজনের ওপর নির্ভর করে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এই উপলব্ধির ফলস্বরূপ, দীর্ঘ এক বছর পর ভারত এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে অনেক বেশি আগ্রহী।

জহর সরকার আরও লক্ষ্য করেছেন যে, বিএনপি এখন অনেক বেশি মধ্যপন্থি অবস্থানে ফিরে এসেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছে। যদিও তারা নির্বাচনে খুব বেশি আসন পায়নি, তবে তাদের ভোট ব্যাংক যে বেড়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে তাদের প্রভাব ভারতের জন্য একটি নতুন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও জহর সরকার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ড. ইউনূস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। তার প্রণীত ৮৪ দফার ‘জুলাই চার্টার’ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য ড. ইউনূস নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলাতে তিনি পুরোপুরি সফল হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভোটাররা জেন-জি নেতৃত্বকে বর্জন করে অভিজ্ঞ রাজনীতির ওপরই আস্থা রেখেছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জ। জহর সরকার স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। ভারতের উচিত হবে অবিলম্বে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ব্যবস্থা সহজ করে দেওয়া। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য যারা ভারতে যেতে চান, তাদের পথ প্রশস্ত করা আবশ্যক। রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই। তাই বাস্তবতার নিরিখে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন রূপ দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ভারতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: জহর সরকারের কূটনৈতিক বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ১০:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং অভিজ্ঞ কূটনীতিক জহর সরকার এক তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির উচিত ধৈর্য ধরে ঢাকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নতুন করে ঝালাই করে নেওয়া। ভারতের জন্য এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দৃশ্যমান না হয়ে বরং পর্দার আড়ালে থেকে সম্পর্ক মেরামতের কাজে মনোনিবেশ করা অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি মনে করেন। জহর সরকারের পর্যবেক্ষণে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি এবং হাসিনা যেন ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ান।

ভারতীয় এই কূটনীতিকের মতে, ভারতের নীতিতে এখন একটি বড় ধরনের বদল পরিলক্ষিত হচ্ছে। দিল্লি এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে, কেবল একজনের ওপর নির্ভর করে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এই উপলব্ধির ফলস্বরূপ, দীর্ঘ এক বছর পর ভারত এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে অনেক বেশি আগ্রহী।

জহর সরকার আরও লক্ষ্য করেছেন যে, বিএনপি এখন অনেক বেশি মধ্যপন্থি অবস্থানে ফিরে এসেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছে। যদিও তারা নির্বাচনে খুব বেশি আসন পায়নি, তবে তাদের ভোট ব্যাংক যে বেড়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে তাদের প্রভাব ভারতের জন্য একটি নতুন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও জহর সরকার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ড. ইউনূস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। তার প্রণীত ৮৪ দফার ‘জুলাই চার্টার’ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য ড. ইউনূস নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলাতে তিনি পুরোপুরি সফল হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভোটাররা জেন-জি নেতৃত্বকে বর্জন করে অভিজ্ঞ রাজনীতির ওপরই আস্থা রেখেছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জ। জহর সরকার স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। ভারতের উচিত হবে অবিলম্বে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ব্যবস্থা সহজ করে দেওয়া। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য যারা ভারতে যেতে চান, তাদের পথ প্রশস্ত করা আবশ্যক। রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই। তাই বাস্তবতার নিরিখে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন রূপ দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।